Jump to content
IslamicTeachings.org
MUSLIM WOMAN

রোজাদারকে ইফতার করালে সমান সওয়াব

Recommended Posts

:assalam:

 

 

 

 

 

রোজাদারকে ইফতার করালে সমান সওয়াব

 

 

 

যাযাদি রিপোর্ট

 

রমজানুল মোবারকের আজ ২৪ তারিখ। আর মাত্র ক'দিন পর রমজান আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেবে, তাই এখন উচিত যতটুকু সম্ভব সওয়াব অর্জনে সচেষ্ট থাকা। ঈমানদার মুসলামানগণ তাই বেশি বেশি ইবাদত করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রার্থনা করছেন। রমজানের এ পবিত্র মাসে সব ধরনের ইবাদতের অন্তত ৭০ গুণ বেশি সওয়াব দেয়া হবে।

 

 

তাই সব ধরনের ফরজ ও সুন্নতের পাশাপাশি নফল ইবাদত আদায়ে সবাই ব্যস্ত রয়েছেন। দান-ছদগা, ফেতরা ও যাকাত আদায়ের পাশাপাশি রোজাদারকে ইফতার করিয়ে সওয়াব হাসিলের চেষ্টা করছেন অনেকে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবেন, তার জন্য গুনাহ মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং সে রোজাদারের সমান সওয়াবের অংশীদার হবেন। তবে এতে রোজাদারের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পানি পান করাবে আল্লাহতায়ালা তাকে হাউসে কাওছার থেকে এমন পানি পান করাবেন, যার পর জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত আর পিপাসা লাগবে না।' (বায়হাকি, ইবনে খুজাইমা)

 

 

 

 

 

সাহাবায়ে কিরাম আরজ করলেন, হে রাসুলুল্লাহ! আমাদের প্রত্যকেই এমন সামর্থ্য রাখে না যে, রোজাদারকে ইফতার করাতে পারে। নবী করিম (সা.) বললেন, এই সওয়াব তো আল্লাহতায়ালা একটি খেজুর খাওয়ালে অথবা এক ঢোক পানি পান করালে অথবা এক চুমুক দুধ পান করালেও দান করবেন। পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরিফ থেকে জানা যায় যে, কিয়ামতের ময়দানে বেহেশত থেকে প্রবাহিত দুটো পানির ধারা এনে একটা বিশাল হাউজে জমা করা হবে।

 

 

 

 

এ হাউজটার নাম হলো 'হাউজে কাওছার'। ওই হাউজের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মহান আল্লাহতায়ালা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হাতে দান করবেন। যারা পৃথিবীতে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম মাহে রমজানের রোজা পালন করবেন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের ওই হাউজ থেকে পানি পান করাবেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, 'আমি অবশ্যই আপনাকে [হযরত মুহাম্মদ (সা.) ] কাওছার দান করেছি।' (সূরা আল-কাওছার, আয়াত-১)

 

 

 

 

 

দয়াময় আল্লাহর অপূর্ব করুণাধারা হাউজে কাওছার। বুখারি শরিফে পাওয়া যায় নবী করীম (সা.) সেদিন হাউজে কাওছারের পাশে অবস্থান করবেন। হাশরের ময়দানে প্রচ- উত্তাপে তৃষ্ণার্ত মানুষ শুধু পানি পানি বলে আর্তচিৎকার করবে। তখন নবী করিম (সা.) তার অনুসারীদের পানি পান করাবেন। সাহাল বিন সাদ (রা.) বলেন, আমি নবী করীম (সা.) কে বলতে শুনেছি (যখন আমি হাউজে কাউসারের পানি পান করাব তখন) অবশ্যই আমার কাছে এমন কিছু লোক আসবে যাদের আমি চিনি এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। অতঃপর তাদের ও আমার মাঝে আড়াল করে দেয়া হবে। তখন আমি (ফেরেস্তাদের) বলব-এরাতো আমার উম্মত! তখন আমাকে বলা হবে- আপনি জানেন না যে, তারা আপনার পর কি সব নতুন নতুন কাজের আবিষ্কার করেছে। অতঃপর আমি বলল- যারা আমার পর আমার দ্বীনের পরিবর্তন সাধন করেছে, তারা দূর হোক, তারা দূর হোক।' [বুখারী শরীফ, হাদিস নং-৬৬৪৩]

 

 

 

 

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো বিদআদিকে সাহায্য করে, আল্লাহ্ তাকে লানত করেন। -[মুসলিম] রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শুনে রাখো! হাউজে কাওছারের কাছে তোমাদের সাথে আমার দেখা হবে। তোমাদের সংখ্যার আধিক্য নিয়ে আমি গর্ব করব। সেই দিন তোমরা আমার চেহারা মলিন করে দিও না। জেনে রাখো!

 

আমি সেদিন অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চালাব। কিন্তু তাদের অনেককে আমার থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আমি তোমাদের আমার এবং আমার পরবর্তী সঠিক পথপ্রাপ্ত খলিফাদের অনুসরণের ব্যাপারে তাগিদ দিচ্ছি; তোমরা একে দৃঢ়ভাবে অাঁকড়ে ধরে থাক। [দ্বীনের মধ্যে] নব উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সাবধান হও, কেননা প্রতিটি নবোদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, এবং প্রতিটি বিদাতই হচ্ছে পথভ্রষ্টতা।'-[আহমাদ, তিরমিযী]

 

 

 

 

হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে, 'আল্লাহতায়ালা কিয়ামতের দিন বলবেন : হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমার সেবা করনি। সে বলবে : হে প্রভু, আপনি তো জগৎসমূহের প্রতিপালক! কীভাবে আপনার সেবা করব? আল্লাহ বলবেন : আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল, তুমি তার সেবা করনি। তুমি কি জানতে না তার সেবা করলে তুমি আমাকে তার কাছে পেতে?

 

 

 

রোজা রেখে আর্তমানবতার প্রতি সাহায্য-সহানুভূতি ও দয়া-মায়া প্রদর্শন করলে আল্লাহতায়ালা অত্যন্ত খুশি হন এবং রোজাদারের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে সফলতা আসে। এ সম্পর্কে নবী করীম (সা.) পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছেন, 'এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্য দান করলে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সুস্বাদু ফল দান করবেন। কোনো মুসলমানকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পানি পান করালে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সিলমোহরকৃত পাত্র থেকে পবিত্র পানি পান করাবেন।' (আবু দাউদ)

 

 

 

পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ তার মুমিন বান্দাদের জন্য পরকালে যে বন্দোবস্ত রেখেছেন, এসব নিয়ামত কোনো দিন কেউ চোখ দেখেনি। কোনো দিন কোনো মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি।

 

http://www.jjdin.com...pe_id=1&index=7

Share this post


Link to post
Share on other sites

Create an account or sign in to comment

You need to be a member in order to leave a comment

Create an account

Sign up for a new account in our community. It's easy!

Register a new account

Sign in

Already have an account? Sign in here.

Sign In Now

×
×
  • Create New...