Jump to content
IslamicTeachings.org
MUSLIM WOMAN

আদব ( জ্ঞান চর্চাকারীর আদবকায়দা )

Recommended Posts

:assalam:


Bangla translation of The Manners of the Knowledge Seeker.

Author: Abu 'Abdillah Muhammad Sa'id Raslan


 

আদব


(জ্ঞান চর্চাকারীর আদব-কায়দা)

মূল (আরবী): শেখ আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ সাঈদ রাসলিন, সৌদি আরব

 

 

 


ইংরেজী অনুবাদ:     আবু   সাবাইয়া
ইংরেজী থেকে অনুবাদ: জাবীন হামিদ, বাংলাদেশ

 

 

 

 

 


"আমি ত্রিশ বছর ধরে আদব শিখেছি আর জ্ঞান চর্চায় সময় দিয়েছি বিশ বছর।"আবদুল্লাহ বিন আল মুবারক

 

 

সূচি :

 

  • ভূমিকা

 

১. জ্ঞানের  সন্ধান  করার  সময়  আল্লাহর  উদ্দেশ্যে  নিয়ত  করতে  হবে :

২. শরীয়াহ  বিরোধী  সবকিছু  থেকে  মন  ও    আচরণকে  শুদ্ধ  করতে  হবে :

 

৩. জ্ঞানের দিকে পুরো মনোযোগ দিতে হবে ও সব বাধা দূর করতে হবে :

 মনকে   মুক্ত  করতে হবে  ও  সব বাধা দূর করতে হবে :

 

৪. কম খাও  ,  সাবধান  হও   ও  সবসময়  আল্লাহর  যিকির করো :

 

৫. খাওয়া , ঘুম  ও কথা  যত  কম তত  ভাল :

 

৬.   সঠিক  বন্ধু  বেছে নেয়া  ও সামাজিকতা  কমানো :

৭. কী শিখবে  ? কার  কাছে  শিখবে ?

 

৮ .  শিক্ষকের  সাথে   সেরা আচরণ  করতে  হবে :

 

৯ .  বইয়ের  যত্ন নেবে :

 

১০ .  যেভাবে  পড়তে  হবে  :

 

শেষ কথা :

 


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

 

 

 

 

 

অবশ্যই সব প্রশংসা আল্লাহরআমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে মাফ চাইআমাদের আত্মার অকল্যাণ ও কাজের ভুল থেকে আল্লাহর আশ্রয় আমরা প্রার্থনা করিআল্লাহ্ যাকে পথ দেখান, কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে নাআর আল্লাহ্ যাকে হেদায়াত করেন না, কেউ তাকে পথ দেখাতে পারে না

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ছাড়া কেউ উপাসনার যোগ্য নয়, আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم আল্লাহর দাস ও রাসূল

"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থ ভাবে ভয় করো ও আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো না।" (সূরা আলে ইমরান: ১০২)

"হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করযিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও যিনি তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি তাদের দুজন থেকে অনেক নর-নারী ছড়িয়ে দেন; আর আল্লাহকে ভয় কর; যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার (ও পাওনা) দাবী কর এবং সতর্ক থাক আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কেনিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন।" (সূরা আন্-নিসা:  :১)

হে মুমিনগণ ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বলতিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেনএবং তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করবেনযে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। ( সূরা আল আহযাব; ৩৩: ৭০-৭১ )

নিশ্চয়ই সব কথার মধ্যে আল্লাহর কথাই সবচেয়ে সত্য ও রাসূল صلى الله عليه وسلم সবচেয়ে সুন্দরভাবে আমাদের পথ দেখিয়েছেন

সবচেয়ে খারাপ কাজ হলো বিদআত ও সব বিদআত পথভ্রষ্ট; আর সব পথভ্রষ্টতা নিয়ে যায় দোযখের আগুনের দিকে

জ্ঞান হলো মনের ইবাদত, জীবনের রহস্য ও শক্তির উৎসযিনি জ্ঞান অনুসন্ধান করছেন তার জন্য এটা অবশ্য কর্তব্য যে, জ্ঞান বিষয়ক যে সব আদবকায়দা আছে, তা তিনি জেনে নেবেন ও এই আদব শিখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেনতা না হলে তিনি যাবেন একদিকে, জ্ঞান যাবে অন্যদিকে যেমনটি বলা হয়ে থাকে জ্ঞান যায় পূর্বে, সে যায় পশ্চিমে - পূর্ব আর পশ্চিমের মধ্যে কতই না দূরত্ব

একজনকে বুঝতে হবে এসব আদব অন্য সব আচরণের মত নাযে ইচ্ছা হলো তা করলাম, ইচ্ছা না হলে এই আদব শিখলাম নাএসব আদব একই স্তরের না বরং কিছু কিছু আদব শেখা সবার জন্যই বাধ্যতামূলক তা সে যেখানেই থাকুক না কেন বা ছাত্র - অছাত্র যেই হোক না কেন

শরীয়াহ সম্পর্কে জানার লক্ষ্য হলো নিখুঁত ও স্পষ্টভাবে মনোভাব প্রকাশ করতে শেখানিজের মনোভাব স্পষ্ট ও নিখুঁত প্রকাশের লক্ষ্য হলো আল্লাহকে সবার থেকে আলাদা করাও শুধু তাঁরই ইবাদত করা তাই জ্ঞানের সন্ধান করার উদ্দেশ্য হলোআল্লাহ যিনি সর্বশক্তিমান ও মহিমান্বিত তাঁকে আর সবার থেকে আলাদা করাও একমাত্র আল্লাহরই উপাসনা করা - এটি তখনই ভালভাবে একজন বুঝতে পারে যখন সে জ্ঞানের প্রতি সুবিচার করে - তা সে ছাত্র বা শিক্ষক যেই হোক না কেন

যে জ্ঞানের সন্ধান করছে তার থেকে আদব তাই আলাদা নয়, কেননা এই আদব কায়দার অন্তর্ভুক্ত হলো ধর্মের মূলনীতিধর্মীয় আদর্শের সাথে মতবিরোধে যাওয়ার বিলাসিতা একজন করতে পারে না বা এটাকে গুরুত্ব না দেয়ার কোন উপায় নেই

জ্ঞান চর্চাকারীর জন্য আদব শেখা তাই সবসময়ই বাধ্যতামূলক ও আল্লাহ হলেন সাহায্যের উৎস ও তাঁর উপরেই আমরা ভরসা রাখি

  • Like 1

Share this post


Link to post
Share on other sites

:assalam:

 

 

 

ছাত্রদের জন্য যে সব আদব কায়দা জানা বাধ্যতামূলক সেসব হলো:

-১-

জ্ঞানের সন্ধান করার সময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিয়্যত করতে হবে:

আবু হামিদ আল গাযযালী (রঃ) বলেন: নিয়্যত, ইরাদা ও ক্বাসদ - এগুলি আলাদা পরিভাষা হলেও এদের মানে একএগুলি মনের অবস্থা বর্ণনা করেমন দুটি জিনিষের উৎস - জ্ঞান ও কাজ

প্রথমে আসে জ্ঞান, কেননা এটা হলো স্তম্ভ ও শর্তএরপর কাজ তার অনুসরণ করে, কেননা কাজ হলো জ্ঞানের শাখাজ্ঞান, ইচ্ছা ও সামর্থ্য - এগুলি ছাড়া কোন কাজ হয় নাতার মানে, সেই বিষয়ে জানতে হবে, সেটা করার ইচ্ছা মনে থাকতে হবে

মানুষ এমন ভাবে সৃষ্ট হয়েছে, যাতে সে মাঝেমাঝে এমন কাজ করে, যা তার মন চায়, আবার এমন কাজও সে করে, যার সাথে মনের ইচ্ছার সংঘর্ষ হয়এই অবস্থায় সে তাই করবে, যা তার জন্য ভাল; যা ক্ষতিকর সেটা থেকে সে দূরে থাকবেএজন্য তার জানা থাকতে হবে, কী তার জন্য কল্যাণকর, আর কী তার ক্ষতি করবেযে আগুন দেখতে পাচ্ছে না, সে আগুন থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবে নাতাই আল্লাহ হেদায়েত ও জ্ঞান সৃষ্টি করেছেন, এগুলি পাওয়ার উপায় ঠিক করে দিয়েছেন - সেগুলি হলো আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ইন্দ্রিয় সমূহকোন কিছু করার জন্য একজনের মনে কোন লক্ষ্য থাকবে যা তাকে উদ্দীপিত করবে

কারো মনে কোন লক্ষ্য থাকলে তা তাকে কোন কাজের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়সে তখন লক্ষ্য পূরণের জন্য তার শক্তি ও সামর্থ্যকে কাজে লাগায়অর্থাৎ কোন কাজ করে আল্লাহ এমন কোন কাজ গ্রহণ করেন না, যা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়নি

রাসূল صلى الله عليه وسلم নিয়্যতের গুরুত্ব সম্পর্কে ও যা একজনের কাজকে নষ্ট করে ফেলতে পারে, তা থেকে নিয়্যত শুদ্ধ রাখার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে বলেছেনরাসূল صلى الله عليه وسلم যা বলেছেন তার মানে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করেছে, সে আল্লাহর কাছ থেকে পুরষ্কার পাবেআর যে দুনিয়ার সম্পদ বা কোন নারীর জন্য হিজরত করে, তবে সেই হিজরতের জন্য পরকালে কোন পুরষ্কার থাকবে নাশরীয়াহতে এটা সুপ্রতিষ্ঠিত যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্য ছাড়া কোন ইবাদত করা হলে তা আল্লাহ গ্রহণ করেন না

খলিফা উমর رضي الله عنهم           একদিন মিম্বারে দাড়িয়ে বলেন: রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন: অবশ্যই কাজের ফলাফল নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল; একজন মানুষ তাই পাবে যা সে নিয়্যত করেতাই যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল صلى الله عليه وسلم এর জন্য হিজরত করে, তার হিজরত এদেরই জন্য আর যে হিজরত করে দুনিয়াতে কোন লাভের জন্য বা কোন নারীকে বিয়ের জন্য, তার হিজরত সেজন্যই ( বর্ণনায় ইমাম বুখারী, সূত্র আলকামাহ বিন ওয়াকাস আল লায়থি)

আন নওয়াবি (রহঃ) বলেন: এই হাদিসের গুরুত্ব সম্পর্কে মুসলমানরা একমত এর সূত্র নির্ভরযোগ্য ও এই এক হাদিসের মধ্যে অনেক কল্যাণ আছেআশ শাফেয়ী ও অন্যান্যরা বলেন: ইসলামের চার ভাগের এক ভাগ আছে এই একটি হাদিসেআবদুর রাহমান বিন মাহদী ও অন্যান্যরা বলেন: যে বই লিখে তার জন্য এটা অপরিহার্য যে সে এই হাদিস দিয়ে বইটি শুরু করবে এটা ছাত্রদেরকে শুদ্ধভাবে আবারও নিয়্যত করার কথা মনে করাবেআল বুখারী (রঃ)ও আরো অনেকে তাদের বইয়ের শুরুতে এই হাদিসের উল্লেখ করতেন বুখারী (রঃ) তার বইয়ের সাত জায়গায় এই হাদিসের উল্লেখ করেন

বেশীরভাগ ইসলামিক চিন্তাবিদ, ভাষাবিদ ও আইনবিদ মনে করেন যে অবশ্যই শব্দটি এটাই নিশ্চিত করে যা বলা হয়েছে ও অন্যকিছুকে প্রত্যাখ্যান করে এর মানে নিয়্যতের উপর কাজ নির্ভরশীল ও নিয়্যত সঠিক না হলে সে কাজের ফলাফল শূন্য

কুরআন ও হাদিসে এর অনেক প্রমাণ আছেযেমন সূরা ক্বাহফে আল্লাহ বলেন,

বলুন: আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ; আমার প্রতি ওহী নাযিল হয় যে, তোমাদের মাবুদ হলেন একতাই যে তার মাবুদের সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন ভাল কাজ করেএবং তার মাবুদের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে। ( ১৮: ১১০ )

তাদেরকে এছাড়া কোন আদেশ দেয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে ( সূরা বায়্যিনা: ৯৮:৫ )

এক লোক রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কাছে জানতে চাইলো: কেউ যদি পুরষ্কার ও সম্মানের আশায় যুদ্ধ করে, তবে সে কী পাবে? রাসূল صلى الله عليه وسلم       উত্তর দিলেন, কিছু নালোকটি তিনবার প্রশ্ন করলো, রাসূল صلى الله عليه وسلم তিনবার একই উত্তর দিলেনতারপর বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন কাজ গ্রহণ করেন না যদি সেটা আন্তরিকতার সাথে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা না হয় ( হাদিস বর্ণনায় আবু উমামাহ )

রাসূল صلى الله عليه وسلم জানান, আল্লাহ বলেছেন: আমি স্বয়ংসম্পূর্ণ - আমার কোন অংশীদারের দরকার নেইতাই কেউ যদি কোন কাজ করে যাতে সে আমার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করেছে, তবে আমি তার থেকে মুক্ত ও যাকে সে আমার অংশীদার বানিয়েছে, তার জন্য ওকে ছেড়ে দেব ( বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা ) তাই যে কোন কাজে আল্লাহর জন্য নিয়ত করা জরুরী

ইবনে আল কাইয়্যুম বলেন: ঠিক যেমনটি উনি একমাত্র উপাস্য কোন অংশীদার ছাড়া, এটি অপরিহার্য যে উপাসনা হবে শুধু তাঁরই জন্যতাই যেভাবে উনি উপাস্য হিসাবে একক, ইবাদতের জন্যও সবার থেকে তাঁকে আলাদা করতে হবেসৎ কাজ হচ্ছে তাই যা রিয়া বা লোক দেখানো না ও সুন্নতপন্থী

সুলায়মান বিন আবদুল্লাহ رضي الله عنهم      বলেন: কোন কাজ গ্রহণ হওয়ার জন্য দুইটি স্তম্ভের দরকার - তা সঠিক হতে হবে ও আন্তরিকতার সাথে করতে হবেসৎ কাজ হচ্ছে তাই যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে মানানসই যেমনটি কুরআনে আদেশ দেয়া হয়েছে: সে যেন ভাল কাজ করে ( সূরা কাহফ; ১৮: ১১০ )

আন্তরিক কাজ সেটাই যা গোপন ও প্রকাশ্য শিরক থেকে মুক্ত যেমনটি আল্লাহ বলেন: এবং তার মাবুদের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে ( সূরা কাহফ; ১৮: ১১০)

যে জ্ঞানের সন্ধান করছে, সে তার নিয়্যতকে শুদ্ধ করবে - আর জ্ঞানের সন্ধানের সময় সঠিক নিয়্যত হচ্ছে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা ও সেজন্য কাজ করা, তাঁর শরীয়তকে জীবন দান বা শরীয়াহ আইনের প্রচলন ঘটানো, নিজের মনকে আলোকিত ও আত্মিক জগতকে সুন্দর করা, কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা ও আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য যে মহা-পুরষ্কারের আয়োজন রেখেছেন, সেটা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করা

সুফিয়ান আস সাওরী (রহঃ) বলেন, নিয়্যত সংশোধনের মতো কঠিন চেষ্টা অন্য কোন কাজে আমাকে কখনো করতে হয় নিএই দুনিয়ায় কোন কিছু পাওয়ার লোভে অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ কোন পদ লাভ, সম্মান ও টাকা পয়সা বৃদ্ধি বা আশেপাশের মানুষের চোখে জ্ঞানী ও মহান ব্যক্তির মর্যাদা লাভ, জ্ঞানী গুণী - সম্মানিত ব্যক্তিদের আসরে যাওয়ার সুযোগ অর্জন ইত্যাদির জন্য একজন জ্ঞান চর্চা করবে নাতাহলে তা হবে খারাপের সাথে ভালোর বদল

আবু ইউসুফ رضي الله عنهم(রহঃ)বলেন, হে মানুষ, তোমরা তোমাদের জ্ঞান দিয়ে আল্লাহকে খুজোজ্ঞানের সন্ধানে আমি বিনীত না হয়ে কোথাও কখনো বসি নি আর সে জায়গা থেকে সবার চেয়ে বেশী জ্ঞান অর্জন করেই আমি উঠেছিসবার থেকে আমি সেরা তা দেখানোর আশায় কখনো কোথাও বসি নি - নিজে থেকে তা প্রকাশ পেয়ে গেলে তা আলাদা কথা

জ্ঞান হলো ইবাদতের কাজ ও আল্লাহর কাছে যাওয়ার একটি উপায়তাই এই ইবাদতে আপনার নিয়্যত যদি খাঁটি হয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে, বিশুদ্ধ করা হবে ও কল্যাণকর হবেযদি আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কিছুর ইচ্ছা থাকে, তবে তা নষ্ট ও অপচয় হবে - আপনি তার কল্যাণ হারাবেনএমন হতে পারে যে কেউ মহৎ উদ্দেশ্য ছাড়া কোন কাজ করলো আর তার লক্ষ্য পূরণ হলো নাফলে তার সব পরিশ্রম ও চেষ্টা বৃথা গেল

উপরে যা বলা হয়েছে তার সার- সংক্ষেপ একটি হাদিসে বলা হয়েছেকিয়ামতের দিন তিনজনকে প্রথমে আগুনে ফেলে দেয়া হবেএরা হলো আলেম, মুজাহিদ ও দাতাআল্লাহ জ্ঞানী বা আলেমকে প্রশ্ন করবেন: তুমি দুনিয়ায় কী করেছ? সে বলবে: আমি আপনার জন্য জ্ঞান অর্জন করেছিলাম ও আপনার সন্তুষ্টির জন্য সেই জ্ঞান দান করেছিতখন তাকে বলা হবে, তুমি মিথ্যা বলেছতুমি জ্ঞান অর্জন করেছো যেন তোমাকে জ্ঞানী বলা হয় তুমি যা চেয়েছিলে তা দুনিয়াতে পেয়ে গিয়েছতখন আদেশ করা হবে সেই জ্ঞানীকে দোযখে ফেলে দেয়ার জন্য

দানকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ প্রশ্ন করবেন: তুমি দুনিয়ায় কী করেছো? সে বলবে: আমি আপনার জন্য হালাল ভাবে সম্পদ অর্জন করেছিলাম ও আপনার পথে তা দান করেছি

তখন তাকে বলা হবে, তুমি মিথ্যা বলেছতুমি সম্পদ দান করেছো যেন তোমাকে দানশীল বলা হয়তুমি যা চেয়েছিলে তা দুনিয়াতে পেয়ে গিয়েছ তখন আদেশ করা হবে সেই দানশীল ব্যক্তিকে দোযখে ফেলে দেয়ার জন্য

মুজাহিদকে প্রশ্ন করা হবে: তুমি দুনিয়ায় কী করেছিলে? সে বলবে: আমি আপনার জন্য মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত লড়াই করেছিলামতাকে বলা হবে, তুমি মিথ্যাবাদীতুমি এজন্য লড়াই করেছো যেন তোমাকে বীর যোদ্ধা বলা হয় ও তাই হয়েছেতুমি দুনিয়াতেই তোমার পুরষ্কার পেয়ে গিয়েছ এরপর তাকে দোযখে ফেলে দেয়ার আদেশ হবে

আল নওয়ারী رضي الله عنهم (রঃ) বলেন: লোক দেখানো কাজ করা মানা, ও তা করলে যে কঠিন শাস্তি পেতে হব, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এই হাদিস তার একটি প্রমাণকোন কাজের জন্য সঠিক নিয়্যত থাকার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: তাদেরকে এছাড়া কোন আদেশ দেয়া হয় নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে ( সূরা বায়্যিনাহ; ৯৮: ৫ )

এটা আরো বোঝায় যে জিহাদ, জ্ঞান চর্চা, দান - এসবের মর্যাদা ও প্রতিদান সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা তাদের জন্যই প্রযোজ্য যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এসব করবেএই হাদিসের আলোকে বলা যায় - একজন ছাত্র জ্ঞান চর্চায় তার নিয়্যত শুদ্ধ করবে - এটা নিয়ে কোন প্রশ্নই উঠতে পারে নাসে জ্ঞানের খোঁজ করবে আর কাউকে না বরং আল্লাহর জন্য; তাঁর সন্তুষ্টির জন্য ও পুরষ্কার আল্লাহর কাছ থেকেই আশা করবে

আল্লাহর রাসূল হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে এজন্য জ্ঞান চর্চা করে যেন জ্ঞানীদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে, যারা জানে না তাদের থেকে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে পারে বা মানুষ যেন তাকে সম্মানের চোখে দেখে, তবে সে দোযখে যাবে ( আল - আলবানী এই হাদিসকে সহীহ বলেছেন )


 

Share this post


Link to post
Share on other sites

:assalam:

 

 

 

 

 

 

 

- ২ -

শরীয়াহ বিরোধী সবকিছু থেকে মন ও আচরণকে শুদ্ধ করতে হবে:

জ্ঞান অর্জনের পথে যে ছাত্র, সে নিজেকে শুদ্ধ রাখবে সব বিদআত থেকে

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাহ, জীবনের সব ক্ষেত্রে সে প্রয়োগ করবে ও উযু বজায় রেখে সাধ্যমত দেহ ও পোশাক পবিত্র রাখবে

আবদুল মালিক আল মায়মুনি বলেন: ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল (রঃ)এর চেয়ে আর কাউকে আমি এত পরিষ্কার কাপড় পরতে, গোঁফ ছাটাতে মনোযোগী, চুল দাড়ি পরিপাটি রাখা ও ধবধবে সাদা পাক কাপড় পরতে দেখি নি ( বর্ণনায় ইবনে আবু হাতিম )

আহমেদ বিন হাম্বল رضي الله عنهم (রঃ) এর সব কাজ ছিল সুন্নাহ অনুসারে যেমনটি তিনি বলেন: আমি কখনোই এমন কোন হাদিস লিখিনি যা আমি নিজে আমল করিনিএকবার আমি জানতে পারলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন ( গা থেকে দুষিত রক্ত বের করে দেয়া ) ও এক দিনার মজুরী দিয়েছিলেনসেজন্য আমিও শিঙ্গা লাগাই ও যে এটা করে তাকে এক দিনার দেই

পরিষ্কার কাপড় পরা নিয়ে কেউ যেন ভুল ধারণা না রাখে ও এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: বাদহাদা আসে ঈমান থেকেইবনে আল আতহীর (রঃ) বলেন: বাদহাদা হলো সাদাসিধা ভাবে মানুষের সামনে হাজির হওয়ারাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝিয়েছেন, পোশাকের মধ্য দিয়ে একজন বিনয় প্রকাশ করবে - অহংকার নয়

আবু আবদুল্লাহ আল বুসিনজী বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছেন - বাদহাদা আসে ঈমান থেকে, সেটা হলো সেই বিনয় যা একজন তার পোশাকের মধ্য দিয়ে প্রদর্শন করেনএটা হলো নম্রতা যা দামী, চটকদার কাপড় পরা থেকে মুক্ত থাকতে পারলে প্রকাশ পায়

আল খাতীব رضي الله عنهم বলেন: শিক্ষার্থী অবশ্যই হাসি- তামাশা, অর্থহীন ও নীচু শ্রেণীর কথাবার্তা যেমন অপরিপক্ক কথা, অট্টহাসি, ফিকফিক করে হাসা ও অতিরিক্ত কৌতুক থেকে দূরে থাকবেমাঝেমাঝে অল্প হাসার অনুমতি তার আছে সেটা এমন হবে যেন জ্ঞানের সন্ধানে যে আছে, তার আদবের সীমা না ছাড়ায়

সবসময় কেউ যদি জ্ঞানের ছাত্রের উপযুক্ত না এমন সব কথা বলে ও অপরিপক্ক ও ছেলেমানুষী আচরণ, বেশী বেশী হাসি তামাশা করে, তবে তা তার প্রতি অন্যের শ্রদ্ধাবোধ কমিয়ে দেবে ও সেটা তার ব্যক্তিত্বের জন্য ক্ষতিকর

মালেক رضي الله عنهم (রঃ) বলেন: ছাত্ররা স্থিরতা, বিনয় ও প্রশান্তভাবের অধিকারী হবে ও তার আগে যে আলিমগণ চলে গেছেন, তাদের সে অনুসরণ করবেসাইয়্যিদ বিন আমীর বলেন, আমরা হিসাম আদ দাসতাওয়াই এর সাথে ছিলামআমাদের মধ্যে একজন জোরে হেসে উঠলে হিসাম বললেন: তুমি হাসছো যখন তুমি হাদীস নিয়ে পড়ছো? ( বর্ণনায় মুহাম্মদ বিন আল হুসাইন )

একজন ছাত্র হিসামের সামনে হেসে উঠলে তিনি বলেন: হে তরুণ; তুমি জ্ঞানের সন্ধান করছো আর হাসছো? ছেলেটি উত্তর দিল: আল্লাহই কি আমাদের কাঁদান ও হাসান না? হিসাম বললেন, তাহলে তুমি কাঁদো (তরুণটি সূরা নাজমের ৪৩ নং আয়াতের উদ্ধুতি দিয়েছিল; বর্ণনায় আবদুর রহমান বিন মাহদী )

বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করার জন্য সব মুসলমানের উচিত সুন্নাহ মেনে চলা যেমন দেহ পাক্ রাখা, পরিষ্কার কাপড় পরা, মানুষের সামনে যথাযথ ভাবে হাজির হওয়া বিশেষত যারা ছাত্র, তাদের জন্য এসব পালন করা অবশ্য কর্তব্য কেননা তারা তাদের জ্ঞান দিয়ে ভাল কাজের প্রতি উৎসাহিত হবে, এটাই স্বাভাবিক

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার মধ্যে অণু পরিমাণ কিবর আছে, সে বেহেশতে যাবে না ( বর্ণনায় মুসলিম; সূত্র আবদুল্লাহ বিন মাসউদ )

একজন এটা শুনে বললো, অনেকে এটা পছন্দ করে যে তার কাপড় জুতা দেখতে সুন্দর হোকরাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, অবশ্যই আল্লাহ সুন্দর ও তিনি সুন্দরকে ভালবাসেনকিবর হলো সত্যকে অস্বীকার করা ও মানুষকে তুচ্ছ করা ( সহীহ মুসলিম )

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্দর সুগন্ধী ভালবাসতেন ও নিয়মিত সুগন্ধী ব্যবহার করতেনআবু মুসা বিন আনাস বিন মালিকের পিতা জানান রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সুককাহ ছিল ও তিনি তা ব্যবহার করতেন

আল আলবানি বলেন: সুককাহ হলো কালো মৃগনাভি; সময়ের সাথে সাথে এর সুগন্ধ বাড়েএর আরেকটি মানে হতে পারে মৃগনাভি রাখার পাত্র, এটাই মনে হয় সঠিক ( বর্ণনায় দাউদ, মুসলিম)

 

 

 

রাসূল দূর্গন্ধ অপছন্দ করতেন ও তা থেকে ফিরে যেতেনযেমন আবু সাঈদ আল খুদরী رضي الله عنهم বলেন, যখন খায়বার জয় করা হলো তখন আমরা কয়েকজন সাহাবী ক্ষুধার্ত ছিলাম তাই রসুন গাছের কাছে গিয়ে প্রচুর রসুন খাই যতক্ষণ না মন সন্তুষ্ট হয়এরপর মসজিদে যাইরাসূল গন্ধ পেয়ে বললেন: যে এরকম বাজে গন্ধযুক্ত কিছু খায়, সে মসজিদে আসবে না

সবাই বলা শুরু করলো, রসুন হারাম হয়ে গিয়েছে।। রাসূল এটা জানতে পেরে বললেন: হে মানুষ; আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা আমি হারাম করতে পারি নাতবে রসুনের গন্ধ আমি অপছন্দ করি ( বর্ণনায় মুসলিম )

রাসূল বলেন, যে রসুন, পেয়াজ ও পেয়াজের তরকারী খায়, সে ( ওসব খেয়ে ) মসজিদে আসবে নাকেননা, মানুষের মতো ফিরিশতারাও এসব গন্ধে কষ্ট পায় ( বর্ণনায় জাবির رضي الله عنهم )রাসূল বলেছিলেন, মুসলমানরা চল্লিশ দিনের বেশী গোঁফ না ছেটে, নখ, চুল, বগলের লোম না কেটে থাকবে না আনাস বিন মালিক رضي الله عنهم বলেন, রাসূল গোঁফ ছাটার জন্য ও নখ ও বগলের লোম কাটা ও যে চুল দেখা যায় না তা কাটতে ৪০ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন

আন নাওয়ায়ী (রহঃ)বলেন: এর মানে ৪০ দিনের বেশী না কেটে এসব রাখা যাবে না; আবার এর মানে এই না ৪০ দিন পর্যন্ত রাখতেই হবে ( সহীহ মুসলিম )

রাসুল আরো উৎসাহ দিয়েছেন মিসওয়াক ব্যবহার করতেতিনি বলেছেন, যদি আমি এই ভয় না পেতাম যে উম্মাতের জন্য এটা খুব কঠিন হবে, তাহলে প্রত্যেক সালাতের আগে মিসওয়াক ব্যবহার করতে আদেশ দিতাম ( বর্ণনায় আবু হুরায়রা رضي الله عنهم, বুখারী ও মুসলিম)তাই এসব পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ছাত্ররা সতর্ক থাকবে

রাসুল এর সুন্নাহ মেনে এসব পালন করতে হবে ও দৃঢ়ভাবে একে ধরে রাখতে হবেযারা জ্ঞানের ছাত্র, তাদেরকেই বেশী করে এসব ব্যপারে দৃষ্টি রাখতে হবে; কেননা তারা রাসুল এর ওয়ারিসএটাই স্বাভাবিক যে তারাই রাসুল কে বেশী মেনে চলবে ও তাঁর দেখানো আদর্শে পথ চলবে

অন্তরের পবিত্রতার জন্য জ্ঞানের ছাত্ররা অবশ্যই নিজের আত্মাকে শুদ্ধ করবে অপছন্দীয় ও নিন্দনীয় স্বভাব থেকেযেহেতু জ্ঞান হলো মনের ইবাদত, গোপন প্রার্থনা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়বাহ্যিক অঙ্গগুলির উপাসনা গ্রহণযোগ্য হয় না, যদি তা বাহ্যিক অপবিত্রতা থেকে মুক্ত না হয়আত্মিক উপাসনাও তেমনি কবুল হয় না যতক্ষণ না একজন নিজেকে পবিত্র করছে অপবিত্র আচরণ ও স্বভাব থেকে

আল্লাহ বলেন: অবশ্যই মুশরিকরা অপবিত্র ( সূরা তওবা; ৯: ২৮ )এই আয়াত দেখায় যে পবিত্রতা শুধু বাইরের দিকেই সীমিত না যা ইন্দ্রিয়গুলি দিয়ে অনূভব করা যায়; যেহেতু অবিশ্বাসীরা গোসল করে পরিষ্কার কাপড় পরে বাইরের দিক পবিত্র রাখতে পারে কিন্তু তার আত্মিক দিক নোংরা ও অপবিত্রঅন্যভাবে বলা যায়, তার অন্তর নাপাকীতে ভরা

নাজাশাহ ( অপবিত্রতা ) একটি পরিভাষা যা ব্যবহৃত হয় যা থেকে দূরে থাকতে হবে ও যেটা থেকে ফিরে আসতে হবেমনের নাপাকী সবচেয়ে গূরুত্বপূর্ণ অপবিত্রতা যা থেকে একজন দূরে থাকতে চাইবেকারন এখন যদিও এটা শুধুই অপবিত্রতা, পরে স্বাভাবিকভাবেই এর এমন বিকাশ হবে যা একজনকে ধ্বংস করবে

একবার জিবরাইল আলাইহিস সালাম রাসুল এর সাথে দেখা করার কথা দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আসতে দেরী করলেনফলে রাসুল বিচলিত হলেনপরে জিবরাইল আলাইহিস সালাম অভিযোগ করে বললেন, আমরা এমন ঘরে ঢুকি না যেখানে ছবি বা কুকুর আছে ( সহীহ বুখারী; বর্ণনায় ইবনে উমর رضي الله عنهم )

আবু হামিদ আল গাযযালী رضي الله عنهم বলেন: মনও হলো বাসাএই বাসা হলো ফিরিশতাদের যেখানে তারা নেমে আসে ও বাস করেনিন্দনীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যেমন রাগ, লোভ, মিথ্যা বলা, হিংসা, উদ্ধত ভাব, আত্মপ্রশংসা ইত্যাদি হলো ঘেউ ঘেউ করা কুকুরের মতোতাই কিভাবে ফেরেশতা এমন জায়গায় ঢুকবে? ইবনে জামাহ رضي الله عنه বলেন: জ্ঞানের পথের ছাত্র তার মনকে নৈতিক ত্রুটি, প্রতারণা, হিংসা ও খারাপ স্বভাব থেকে মুক্ত রাখবে যাতে সে জ্ঞান অর্জন করতে পারে, তা মনে রাখতে পারে, কোন বিষয়ের বিস্তারিত অর্থ ও জ্ঞানের গোপন সম্পদ আবিষ্কার করতে পারে

অনেকে যেমনটি বলেন - জ্ঞান হলো গোপন ইবাদত, মনের উপাসনা ও আল্লাহকে কাছে পাবার আত্মিক উপায়নোংরা ও নাপাকী থেকে মুক্ত না হলে বাহ্যিক ইন্দ্রিয়সমূহের ইবাদত কবুল হয় না; তেমনি মনের ইবাদত জ্ঞান অর্জন করা সহজ হবে না যদি সে নীচু, ঘৃণ্য স্বভাব ও আচরণ থেকে মুক্ত না হয়

যদি তুমি তোমার মনকে জ্ঞানের জন্য পরিষ্কার রাখো, এর কল্যাণ স্পষ্ট বোঝা যাবে - ঠিক যেমন এক টুকরো জমি চাষের পর ফলনশীল হয়হাদীসে বলা হয়েছে: অবশ্যই দেহের মধ্যে এক টুকরা মাংস আছে যদি সেটা ভাল থাকে, তবে বাকী শরীর ভাল থাকবেযদি এটা নষ্ট হয়, তবে বাকী দেহ নষ্ট হবেঅবশ্যই এটা হলো মন বা অন্তর ( ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম ও ইবনে হিববানের বর্ণিত একটি বড় হাদীসের অংশ এটি )

কোন আলোর জন্য এমন মনের ভিতরে ঢোকা নিষেধ, যেখানে সর্বশক্তিমান ও মহিমান্বিত আল্লাহ যা ঘৃণা করেন তা থাকেইবনে আল কাইয়্যুম رضي الله عنهم বলেন: পাপ এই দুনিয়ায় দেহ - মনে কুৎসিত, নিন্দনীয় ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে; আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না এসবের প্রভাব পরকালে কী হবেযার উপর এই প্রভাব পড়ে, সে জ্ঞান অর্জন করতে পারে না; কেননা জ্ঞান হলো এমন এক আলো যা আল্লাহ মনের ভিতরে রেখে দেন ও পাপ তা বের করে দেয়

যখন আশ শাফেয়ী (রঃ) পড়ে শোনাবার জন্য ইমাম মালেক (রঃ) এর সামনে বসেন, তখন শাফেয়ীর বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান, বোঝা ও উপলব্ধি করার ক্ষমতা দেখে ইমাম (রঃ) অভিভূত হোনতিনি বলেন: আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার মনের ভিতরে আল্লাহ আলো দিয়েছেনতাই পাপের অন্ধকার দিয়ে এই আলো মন থেকে বের করে দিও নাইমাম শাফীয়ি (রঃ) বলেন, আমি ওয়াকির কাছে মনে রাখার ব্যপারে আমার দূর্বলতা নিয়ে অভিযোগ করলামতিনি উপদেশ দেন পাপ ত্যাগ করতে ও বলেন: জেনে রাখো -
জ্ঞান হলো রহমত ও আল্লাহর রহমত পাপীদের কাছে পৌঁছায় না ( বর্ণনায় ইবনে আল জাওরী رضي الله عنهم (রহঃ)

আবু আবদুল্লাহ বিন আল জালা বলেন: আমি এক খ্রিষ্টান বালকের দিকে তাকিয়ে ছিলাম যার চেহারা ছিল খুব সুন্দরআবু আবদুল্লাহ আল কলযী আমাকে বললেন: তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম: চাচা, আপনি কি এই সুন্দর চেহারা দেখছেন না? এত সুন্দর মুখ কিভাবে আগুনে শাস্তি পাবে? তিনি আমার বুকে ধাক্কা দিয়ে বললেন, তোমার এই কাজের পরিণাম একদিন তুমি পাবেই

এই ঘটনার চল্লিশ বছর পর শাস্তিটা পেলাম আমি কুরআন ভুলে গেলাম

আবু আল আদিয়ান বলেন: আমি আমার শিক্ষক আবু বকর আদ দাককারের সাথে ছিলামসেখানে এমন একটা কিছু ঘটলো যা ঠিক ছিল না আমি তা তাকিয়ে দেখলামতিনি এটা খেয়াল করে বললেন: বৎস, এই তাকানোর পরিণাম তুমি ভোগ করবে, যদিও তা অনেক পরে হয়বিশ বছর পার হয়ে গেল অপেক্ষায় খারাপ কিছু ঘটলো নাএক রাতে আমি এ নিয়ে চিন্তা করে ঘুমাতে গেলামজেগে উঠে বুঝলাম আমি পুরো কুরআন ভুলে গিয়েছি

আবু হামিদ رضي الله عنهم বলেন, যদি তুমি বলতে চাও - কিন্তু আমি তো এমন অনেক ছাত্র দেখেছি যাদের আদব ভাল না কিন্তু তারা যথেষ্ট জ্ঞানী - এই দুইয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্যএই ছাত্র প্রকৃত, দরকারী জ্ঞান যা তাকে পরকালে কল্যাণ ও সুখ এনে দেবে - তার থেকে অনেক দূরে রয়েছেজ্ঞান অর্জনের প্রথম ধাপ থেকে তার কাছে এটা স্পষ্ট যে পাপ হলো প্রাণঘাতি ও ধ্বংসাত্মক বিষতুমি কি এমন কাউকে কখনো দেখেছ যে প্রাণঘাতি বিষের স্পর্শে আসতে চাচ্ছে? এটা জেনেও যে তা বিষ? তুমি যা দেখেছো তা হলো তারা বানিয়ে বানিয়ে কথা বলছে যা তাদের মন অস্বীকার করছে; আর একে কোন ভাবেই জ্ঞান বলে না

ইবনে মাসউদ رضي الله عنهم বলেন: জ্ঞান কোন ধারাবাহিক বর্ণনা না, বরং এটা আলো যা মনের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়অনেকে বলেন - জ্ঞান হলো ভয় যেমনটি আল্লাহ বলেন: অবশ্যই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী, তারাই তাঁকে ভয় করে ( সূরা ফাতির; ৩৫: ২৮ )

কেউ কেউ এ নিয়ে বলেন: আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য জ্ঞানের সন্ধান করেছিলামআর জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য হতে চায় নিতাই জ্ঞান আমাদের থেকে চলে গেল ও তার আসল পরিচয় আমাদের কাছে প্রকাশ করলো না

তাই তুমি যদি বলো, আমি একদল জ্ঞানী ও বিচারকদের দেখেছি যারা খুবই মেধাবী ও জ্ঞানীদের মধ্যে যাদেরকে সবচেয়ে সফল বিবেচনা করা হয় কিন্তু নিন্দনীয় আচরণ থেকে তারা মুক্ত নয়; তবে আমরা বলবো: যদি তুমি প্রকৃত জ্ঞান কী তা বুঝতে পারো ও পরকাল সম্পর্কে জানতে পারো, তাহলে তোমার কাছে এটা স্পষ্ট হবে যে তাদের মনকে যা আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তা কোন কল্যাণকর জ্ঞান নয়বরং সেটাই প্রকৃত কল্যাণকর জ্ঞান যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য,মহিমান্বিত আল্লাহর জন্য আমল করা হয়

মনের পবিত্রতা ও দেহের অঙ্গের শরীয়াহ আইনের প্রতি সমর্পণকে ঘিরে এসব কিছু আবর্তিত হয়তাই শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে আত্মিক ও বাহ্যিক দুই অবস্থার দিকেই যা হবে সুন্নাতপন্থী; যাতে আল্লাহ তার জন্য জ্ঞানের আলো ও সম্পদ উন্মুক্ত করে দেনএসব হলো আল্লাহর অকৃপণ দান যা তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে দেন ও আল্লাহ হলেন অফুরন্ত দানের মালিক


 

Share this post


Link to post
Share on other sites

:assalam:

 

 

 

 

 

- -

জ্ঞানের দিকে পুরো মনোযোগ দিতে হবে ও সব বাধা দূর করতে হবে:
ইবনে আল কাইয়্যুম رضي الله عنهم বলেন: তুমি কী পাচ্ছো তা নির্ভর করে অভ্যাস ত্যাগ ও অন্য কিছুর সাথে একাত্ম হওয়ার উপর

কিছু নিয়ম চালু আছে যাতে মানুষ অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছে ও এসব রীতিকে শরীয়াহর স্তরে বসিয়েছে, বরং কিছু ক্ষেত্রে এসব রীতিকে শরীয়াহ থেকে বেশী সম্মান দেয়া হয়যারা এসব মানতে চান না, তাদেরকে কঠোরভাবে তিরস্কার করা হয়; এমনো হয় এদেরকে কাফির, বেদাআত সৃষ্টিকারী বা পথভ্রষ্ট বলা হয়প্রচলিত এসব নিয়মের জন্য এরা রাসুল     এর নিয়মকে মেরে ফেলে ও নিজেদের নিয়মকে রাসুল     এর অংশীদার বানায়

এদের কাছে সেটাই ভাল যা তাদের নিয়ম মেনে চলে ও তাই খারাপ যা এসবের বিরোধীএসব অভ্যাস ও রীতিকে আদমের সন্তানদের বিভিন্ন দল গ্রহণ করেছে যেমন রাজা, নেতা, বিচারক, সুফি, বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ

একদম ছোট থাকতেই একজনকে এসব শেখানো হয়; বৃদ্ধরা এসব শিখেই বড় হয়েছে - এসব রীতিকে সুন্নাহ হিসাবে পালন করা হয়বরং যারা এসব পালন করে, তারা এসব অভ্যাসকে সুন্নতের থেকেও বেশী গুরুত্ব দেয়
যে এসব প্রচলিত অভ্যাস দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, সে আসলে খুবই হতভাগ্য - এর শেষ ঘটে কুরআন ও সুন্নাহ ত্যাগ করার মধ্য দিয়ে

এদের কাছে সেটাই ভাল যা তাদের রীতি অনুসারে চলে ও তাই খারাপ যা এসবের বিরোধীএসব অভ্যাস ও রীতিকে আদমের সন্তানদের বিভিন্ন দল গ্রহণ করেছে যেমন রাজা, নেতা, বিচারক, সুফি, বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ
আল্লাহর পথে যাওয়ার সময় শরীয়াহ বিরোধী বাহ্যিক ও আত্মিক নানা বাধা মনের ক্ষতি করে

এসব তিনটি বাধা হলো: শিরক, বেদাত ও পাপ শিরকের বাধা দূর করার জন্য তাওহীদকে অবলম্বন করতে হবেবেদআতের বাধা দূর করতে সুন্নাহ মেনে চলতে হবে; প্রকৃত তওবার মধ্য দিয়ে পাপের বাধা সরাতে হবে

আল্লাহ ও পরকালের পথে দাস যাত্রা শুরু না করা পর্যন্ত এসব বাধা তার কাছে স্পষ্ট হয় নাবাধাগুলি লক্ষ্য করার পরে একজন বুঝতে পারে কিভাবে এসব তাকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছিলআল্লাহর পথে রওনা না হলে একজন ওভাবেই থেকে যাবে, এসব বাধার গোপন প্রভাব বুঝতে পারবে না

এই তিনটি বাধা থেকে দূরে যাওয়ার জন্য যে শক্তি দরকার, তার জন্য উচ্চতর লক্ষ্য ঠিক করতে হবেতা না হলে এসবের সাথে সম্পর্ক শেষ করা সম্ভব নামন এমন কিছু ছাড়তে চায় না, যা সে পছন্দ করেব্যতিক্রম হলো যা ত্যাগ করা হচ্ছে তার বদলে আরো বেশী পছন্দের ও গূরুত্বপূর্ণ কিছু যদি পাওয়া যায়যা সে চায় তার সাথে সম্পর্ক যত জোড়ালো হবে, অন্য কিছুর সাথে সম্পর্ক তত দূর্বল হবে

ইবনে আল কাইয়্যুম رضي الله عنهم বলেন, লক্ষ্যে যেতে হলে দরকার বাজে অভ্যাসগুলি বাদ দেয়া; অন্যান্য কিছুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও অন্য বাধাগুলি পার হওয়াএসব নির্ভর করবে বৃহত্তর লক্ষ্যের সাথে আপনার সম্পর্ক কতটুকু শক্তিশালী তার উপরলক্ষ্যের প্রতি আপনার ইচ্ছা যত প্রবল হবে, সেটার জন্য কোন কিছু ত্যাগ করা তত সহজ হবেআপনার মনে হবে আপনি যা চান তা যেন পেয়ে গিয়েছেন

লক্ষ্যস্থলে যাওয়াটা মনে হবে অল্প কিছুদিনের ব্যপার, ত্যাগ যা করতে হবে তা খুবই সামান্য

বদঅভ্যাসগুলি হলো মরিচীকার মতো যেমনটি আল ইমাম আহমদ رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন: যদি কেউ মৃত্যুর কথা ভাবে, তবে এই দুনিয়ার সবকিছুই গূরুত্বহীন হয়ে পড়ে

যে জ্ঞানের চর্চাকারী, তার আকাংখা থাকবে মৃত্যুর পরের জীবন ও আল্লাহর জন্যসেজন্য এই লক্ষ্যস্থলের জন্য প্রবল একাত্মতা তার মনে থাকতে হবেএই দুনিয়ার ভোগ বিলাস ও চাকচিক্য থেকে দূরে থাকার মতো ব্যস্ততার জন্য জ্ঞান চর্চা যথেষ্ট আর বাকী দিন যা আছে তা খুবই অল্প

আল আশহাত আবু আর- রাবি বর্ণনা করেন: সুহবাহ তাকে বলেন তুমি তোমার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলে ও তুমি হয়েছো ধনী ও সফলআমি হাদীসের সাথে ছিলাম ও হয়েছি গরীব

সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সুববাহ বলেছেন: যে হাদীস নিয়ে পড়াশোনা করবে, সে গরীব হবেআমি এতটাই গরীব হয়ে পড়ি যে আমার মায়ের একটি পট সাত দিনারে বিক্রি করি

আয যুবায়ের বিন আবু বকর বলেন: আমাকে নিয়ে আমার ভাতিজি বলে, আমাদের পরিবারে চাচা তার স্ত্রীর সাথে সবচেয়ে ভাল ব্যবহার করেনচাচা দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করেন নি বা দাসী কেনেন নি

আমি বললাম: আমার স্ত্রী বলেন, এসব বই থেকে তিন সতীন তার জন্য কম যন্ত্রণাদায়ক হতো

আবু তাহান বলেন: সুহবাহ তার নিজের অবস্থার বর্ণনা করেছেন ও যারা হাদীসের ছাত্র তাদেরকে উপদেশ দিয়েছেনযারা হাদীস চর্চা করে তাদের সময় এর পিছনেই চলে যায়; তাই তারা নিজের ও পরিবারের জন্য আয় করতে পারে নাফলে তারা অন্যের উপর বোঝা হয়ে যায় - এটা সহীহ হাদীসে যা আদেশ করা হয়েছে তার বিরোধী

সুববাহের কথা থেকে এই মানে করা ঠিক হবে না যে, বেশী অর্থ রোজগার করতে না পারায় তিনি দু:খ পেতেনতিনি ছিলেন মহৎ ও নির্লোভ চরিত্রের অধিকারী - এতটাই তিনি নির্লোভ ছিলেন যে একবার আল মাহদী তাকে ত্রিশ হাজার দিরহাম উপহার দিলে সুহহাব সাথেসাথে তা গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দেনতার কথা থেকে এটাও মনে করা ঠিক হবে না যে, তিনি মানুষকে হাদীস চর্চা থেকে বিরত থাকতে বলতেনবরং তিনি হাদীস চর্চার পাশাপাশি জীবিকা অর্জনের জন্য ছাত্রদের উৎসাহ দিতেন

সুফিয়ান বিন উয়াহনাহ বলেন: এসব কালির পাত্র যে মানুষের ঘরে ঢুকে, তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য জীবন কঠিন হয়ে যায়আত - তাহহান বলেন: কালির পাত্র বলতে এখানে হাদীসের চর্চাকারীরা যে কালি তাদের সাথে রাখেন যেন যখন যা হাদীস তারা শুনতে পান, তা লিখে রাখতে পারেন সেটা বোঝানো হয়েছে

সুফিয়ান সওরী (রহঃ) বুঝিয়েছেন হাদীসের ছাত্রদের বেশীরভাগই লেখা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন যে পরিবারের জন্য আয় করতে পারেন নাফলে তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা অভাবের মধ্যে থাকেকালির পাত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্যই এদের এই কঠিন অবস্থা

ইবনে জামাহ বলেন: ছাত্ররা জ্ঞানের পথে তাদের তারুণ্য ও সময়কে যতটুকু সম্ভব কাজে লাগাবেকালকের জন্য আজকের পড়া ফেলে রাখতে তারা যেন প্ররোচিত না হয়প্রতিটি ঘন্টা যা তাদের জীবন থেকে চলে যাচ্ছে তা খুবই মূল্যবান ও তা আর ফিরে পাওয়া যাবে নাজ্ঞান অর্জনের পথে যে সব বাধা আছে ও যা তার মনোযোগ নষ্ট করে, সে সবের সাথে সম্পর্ক সাধ্যমতো শেষ করতে হবেএর বদলে তার শক্তি ও সামর্থ্যকে জ্ঞান অর্জনের পথে কাজে লাগাতে হবে

এজন্যই যারা সালাফ তারা পরিবার ও দেশ থেকে দূরে চলে যেতে পছন্দ করতেনকেননা, যদি একজনের চিন্তা - ভাবনা অনেক কিছুকে ঘিরে হয়, তাহলে সে জ্ঞানকে আবিষ্কার করতে পারবে না - আল্লাহ মানুষের মনে দুইটি অন্তর দেন নি [ অনুবাদকের ব্যাখ্যা: একটি মন জ্ঞান চর্চা করবে, অন্যটি সংসার চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে, এমনটি সম্ভব না ]

আল খাতীব আল বাগদাদী رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন: জ্ঞান তখনই একজনের হয়যখন সে তার কারখানা বন্ধ করে, বাগান ধ্বংস করে, বন্ধুদের ত্যাগ করে ও পরিবারের সব সদস্য মারা গিয়েছে বলে তাকে আর কারো জানাযায় যেতে হয় না হয়তো একটু বেশী বলা হয়ে গিয়েছে - এখানে মূল কথা হলো জ্ঞানের জন্য একজন তার সব চিন্তা ও মনোযোগকে কাজে লাগাবে

অন্যকিছুর সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করা মানে তার উপর যারা নির্ভর করে, তাদের প্রতি দায়িত্বে অবহেলা করা বা আয় না করে অন্যের করুণার উপর নির্ভর করা - যারা হয়তো সাহায্য করবে বা করবে না - তা নয়

আশ শাফেয়ী رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন: যার বাসায় খাবার নেই, তার সাথে পরামর্শ করবে না; কেননা সে যুক্তিহীন মানুষজ্ঞানের পথে মনোযোগ নষ্ট করে এমন বিষয়ের সাথে সম্পর্ক না রাখার মানে যা করার দরকার নেই, তাতে সে নিজেকে ব্যস্ত রাখবে নাআয় করা ও মন এবং শক্তিকে জ্ঞান চর্চায় ব্যবহারে ভারসাম্য রাখতে হবেআবু ইউসুফ আল কাজী বলেন: জ্ঞান তোমাকে তার এতটুকুও দেবে না যতক্ষণ না তুমি তাকে তোমার পুরোপুরি দিচ্ছ

আল্লাহর রাসূল বলেছেন: সেরা দিনার হলো সেটি যা একজন তার পরিবারের জন্য, আল্লাহর পথে পশু ও সাথীদের পিছনে খরচ করে ( বর্ণনায় সাওবান )

হাদীস বর্ণনাকারী আবু কিলাবাহ (রহঃ) বলেন: রাসূল পরিবারের কথা আগে বলেছেনতার চেয়ে বড় পুরষ্কার আর কে পাবে, যে তার সন্তানদের জন্য খরচ করে ও তাদেরকে সুরক্ষা দেয়?

রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেন: আল্লাহর পথে তুমি যা খরচ করো যেমন দাস মুক্তি, গরীবকে দান করা ও পরিবারের ভরণপোষণ, এসবের মধ্যে সবচেয়ে বড় পুরষ্কার পাবে যা তুমি পরিবারের জন্য খরচ করলে ( বর্ণনায় আবু হুরায়রা عنهم رضي الله )

খায়তামাহ বলেন, আমরা একদিন আবদুল্লাহ বিন উমরের (রাযিঃ) সাথে ছিলাম তার কোষাগারের কর্মচারী সেখানে আসলে তিনি জানতে চান - দাসদের খাবার দিয়েছ? না উত্তর শুনে তিনি বললেন, যাও, ওদের খেতে দাও রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন: পাপের জন্য এটাই যথেষ্ট যে একজন তার অধীনে যারা আছে তাদেরকে সময়মতো খেতে দেয় নি ( সহীহ মুসলিম )

সুফিয়ান আস সাওরীর (রহঃ) কাছে কেউ জ্ঞান অর্জনের জন্য আসলে তিনি তাকে প্রশ্ন করতেন: তোমার কি কোন রোজগার আছে? যদি নিজের খরচ চালানোর মতো ক্ষমতা তার থাকতো, তবেই তিনি তাকে অনুমতি দিতেন তার কাছে শিক্ষা গ্রহণেরতা না হলে বলতেন, যাও, আগে কিছু রোজগার করো

এই আলোকে আমরা সালাফদের কথা এভাবে ব্যাখ্যা করবো যে, তারা বেঁচে থাকার জন্য কমপক্ষে যতটুকু দরকার ঠিক সেটাই নিজের ও পরিবারের জন্য চাইতেনঘন্টার পর ঘন্টা ধরে দুনিয়াদারির অনর্থক কাজে তারা ব্যস্ত হতেন নাও সব প্রলোভন থেকে মুক্ত থাকতেনসালাফরা জ্ঞানকে এতই ভালবাসতেন যে, সেটা তাদের দুনিয়ার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলএ নিয়ে আবু হুরায়রা رضي الله عنهم বলেন, তোমরা বলো আমি রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কাছ থেকে শোনা কথা অনেক বেশী বর্ণনা করেছিতোমরা জানতে চাও কেন মুহাজির ও আনসাররা আমার মতো এত বেশী হাদীস বর্ণনা করে নি?

আমার মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে তাদের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো আর আমি রাসুল صلى الله عليه وسلم এর কাছে থাকতাম; আর তারা যা মুখস্ত করতো না, আমি তা মুখস্ত করতামএ সময় যা খেতে পেতাম তাতেই আমি খুশী থাকতাম

আমার আনসার ভাইয়েরা তাদের সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকতো আর আমি আস শুফফার এক গরীব মানুষ সেই হাদীস মুখস্ত করতাম যা তারা ভুলে যেতরাসুল صلى الله عليه وسلم বলেছিলেন, আমার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে তার কাপড় গুটিয়ে নেবে না, সে তাই মনে রাখতে পারবে যা আমি বলেছি তাই রাসুল صلى الله عليه وسلم এর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি চাদর মেলে বসে থাকতামযখন তিনি কথা শেষ করতেন, তখন চাদর গুটিয়ে বুকে ধরতামতাই আমি রাসুল صلى الله عليه وسلم এর বলা কথা ভুলি নি ( বর্ণনায় ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম )

ক্ষুধা লাগলেও খেতে না গিয়ে রাসুল صلى الله عليه وسلم এর সাথে আমি থাকতামঐ সময়ে আমি ভাজা রুটি খেতাম না বা রঙীন কাপড় পরতাম না কোন নারী পুরুষ আমাকে খাবার বেড়ে খাওয়ায় নি; আমি পেটে পাথর বেধে রাখতাম আর কাউকে কুরআনের কোন আয়াত শুনাতে বলতাম যদিও তা আমার জানা থাকতো ( বুখারী )

ইমাম বুখারী তার বইয়ের সহীহ জ্ঞান অধ্যায়ে আবু হুরায়রার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন লোকে বলে আবু হুরায়রা খুব বেশী হাদীস বলেআল্লাহর বইতে যদি এই দুইটি আয়াত না থাকতো, তবে আমি একটি হাদীসও বর্ণনা করতাম না:

মানুষের জন্য যা আমি কিতাবে বর্ণনা করি, তারপর যারা আমার নাযিল করা সুস্পষ্ট নিদর্শন ও পরিষ্কার পথনির্দেশ গোপন করে, এরাই হচ্ছে সেই লোক যাদের আল্লাহ অভিশাপ দেন, অভিশাপ দেয় অন্যান্য অভিশাপকারীগণও

তবে যারা ফিরে আসবে ও নিজেদের শুধরে নেবে, খোলাখুলিভাবে তারা ( সে সব সত্য ) কথা প্রকাশ করবে ( যা এতদিন আহলে কিতাবরা গোপন করে এসেছিল ), তারা হবে সেই লোক যাদের উপর আমি দয়া দেখাবো, আমি পরম ক্ষমাকারী, দয়ালু ( সূরা বাকারা ১৫৯ ১৬০ )

অবশ্যই আমাদের মুহাজির ভাইয়েরা ব্যবসা ও আনসার ভাইয়েরা তাদের সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন আর আবু হুরায়রা রাসুল صلى الله عليه وسلم এর সাথেসাথে থাকতেন অন্যরা যাতে অংশ নিতো না, তিনি তাতে যোগ দিতেন ও অন্যরা যা মুখস্ত করতো না, তিনি তা মুখস্ত করতেন

আল হাফিয ইবনে হাজার رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন, তিনি ( বুখারী ) তার বইয়ের এই অধ্যায়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) ছাড়া আর কারো কথা বলেন নিএর কারণ আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হাদীস মুখস্ত করেছেন

আশ শাফেয়ী رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন: আবু হুরায়রা رضي الله عنهم তার সময়কালে সবচেয়ে বেশী বর্ণনা মুখস্ত করেছেনআবু হুরায়রার জানাযায় দাড়িয়ে ইবনে উমর رضي الله عنهم আল্লাহর করুণা প্রার্থনা করেন এই বলে যে তিনি রাসূল صلى الله عليه وسلم এর কথা মুসলমানদের জন্য মুখস্ত করেছিলেন

আন নাওয়ায়ী বলেন: তিনি রাসূল صلى الله عليه وسلم এর সাথে সবসময় থাকতেন; নিজের জন্য যে জীবিকার ব্যবস্থা হতো, তিনি তাতেই সন্তুষ্ট হতেন; টাকা জমানোর দিকে তার কোন আকর্ষণ ছিল না ( সহীহ মুসলিম )

রাসূল صلى الله عليه وسلم একবার আবু হুরায়রা (রাযিঃ)কে বলেছিলেন, তুমি কি আমার কাছে গণীমতের মাল নিয়ে জানতে চাইবে না যা অন্য সাহাবীরা জানতে চেয়েছে? আবু হুরায়রার জবাব ছিল, আমি আপনার কাছে তাই জানতে চাই যা আল্লাহ আপনাকে জানিয়েছেন ( বর্ণনায় ইবনে কাসির )

আবু হুরায়রা যদিও হজরত মুহাম্মদ     صلى الله عليه وسلم     এর সাথে বেশীদিন থাকার সুযোগ পান নি, সাহাবীদের মধ্যে তিনিই বেশীরভাগ হাদীস মুখস্ত করে নেনমনে করা হয় ত্রিশ বছর বয়সে তিনি ইসলাম কবুল করেনএরপর থেকে তিনি রাসূল صلى الله عليه وسلم মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁর সাথে সবসময় থাকতেন তাই মাত্র তিন বছর রাসূল صلى الله عليه وسلم এর সাথে থাকার সুযোগ পাওয়ার পরেও তিনি সবচেয়ে হাদীস মুখস্ত ও বর্ণনা করেন

এটা সম্ভব হয়েছিল কেননা জ্ঞানের ব্যপারে তিনি ছিলেন খুবই আন্তরিক; এ বিষয়ে দুনিয়ার সব বাঁধা তিনি দূর করেছিলেন ও মনকে অন্য সব কিছু থেকে মুক্ত রেখেছিলেনজ্ঞানের পথে যা বাধা দেয়, তা থেকে ছাত্রদের দূরে থাকতে হবে; কেননা কারো মনোযোগ যদি এদিক সেদিক ছড়িয়ে যায়, তবে সে জ্ঞানকে পাবে না

সালাফরা সবকিছু থেকে জ্ঞানকে বেশী গূরুত্ব দিতেনযেমন আল ইমাম আহমদ رضي الله عنهم (রহঃ) চল্লিশের পরে বিয়ে করেন

আবু বকর আল আম্বারীকে এক দাসী দেয়া হয়েছিলসে যখন একবার আম্বারীর কাছে যায়, তখন তিনি একটি বিষয়ে রায় কী হবে তা নিয়ে ভাবছিলেনদাসীকে ঘরে ঢুকতে দেখে তিনি বললেন, একে ফেরত পাঠাওদাসী জানতে চাইলো তার অপরাধ কী? তিনি বললেন, তোমার জন্য আমার মনোযোগ নষ্ট হয়েছেজ্ঞানের চেয়ে তুমি আমার কাছে মূল্যবান না

আশ শাফেয়ী رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন, কেউ ধনী ও মর্যাদাবান থাকার সময় জ্ঞানের খোঁজ করলে সে সফল হবে নাবরং যারা বিনীতভাবে কম মর্যাদার স্থানে থেকে জ্ঞানীদের সেবা দেয়, তারা সফল হবে

মালিক বিন আনাস رضي الله عنهم বলেন, কেউ জ্ঞানের খোঁজ পাবে না যতক্ষণ না সে অভাবের মুখোমুখি হয় ও জ্ঞানকে সবকিছুর উপর গূরুত্ব দেয়

Share this post


Link to post
Share on other sites

:assalam:

 

 

 

 

 

 

-৪-

 

কম খাও  ,  সাবধান  হও   ও  সবসময়  আল্লাহর  যিকির করো :

 

 

ইবনে  জামাহ  বলেন :   জ্ঞান অর্জনের জন্য  ও জ্ঞান চর্চার  সময়  বিরক্তিবোধ  না  করার   সেরা  উপায়  হলো  খুব  কম  খাও  ও  হালাল  খাবার  খাও 

আশ শাফেয়ী   رضي الله عنهم    বলেন   :  গত   ষোল  বছর  ধরে  আমি  পেট  ভরে  খাই  নি

 

এর কারণ  হলো বেশী  খেলে  বেশী পানি  পান করতে  হয় , বেশী ঘুমাতে   হয়  ,  সব  চেতনাগুলি  ধীরে  ধীরে  তখন  ভোঁতা   হয়ে  যায়  ও  দেহ  অলস  হয়ে যায়

 

শরীয়াহতে  বেশী    খাওয়া  অপছন্দ  করা  হয়েছে  ।  বেশী  খেলে  শরীরে  বিভিন্ন   অসুখ  দেখা  দেয়  ।   বলা  হয়ে  থাকে , যা রোগ  তুমি  দেখো   তার  বেশীরভাগ  হয়  খাওয়া ও পান করা  থেকে

কোন  আলিম  বা   আউলিয়া   সম্পর্কে  এটা  জানা  যায়  নি  যে   তিনি  বেশী  খেতেন  ।  বেশী  খাওয়া   হলো   বুদ্ধিহীন   প্রাণীদের   বৈশিষ্ট্য  ।  একজন  মানুষের   বুদ্ধিমত্তা  হলো   তার   কাজের  উৎস  ।  এটি  খুবই    মহান  একটি  গুণ  যাকে  ঘৃণ্য  একটি  বিষয়  - অতিরিক্ত  খাওয়া  দিয়ে  ক্ষতি  ও  নষ্ট করা যেতে  পারে  না  । 

অন্য  কোন  খারাপ  দিক  যদি  নাও  থাকে , বেশী  খাওয়ার  জন্য  বেশীবার  যে  টয়লেটে  যেতে  হয়  - একজন  বুদ্ধিমান  মানুষের  জন্য  এই  বদঅভ্যাস  থেকে  দূরে  থাকতে শুধু এই  কারণই যথেষ্ট যে  বেশী   খাওয়া  , পান  করা  ও  বেশী  ঘুমের   পক্ষে  , তার  জন্য  জ্ঞান  অর্জনে   সফল  হওয়া  অসম্ভব 

ইবনে   কুদামাহ  رضي الله عنهم    বলেন   :    খাওয়ার  লোভ    সবচেয়ে  ক্ষতিকর  ও  এটাই  আদম    আলাইহিস  সালামকে    বেহেশত  থেকে  বের  করে এনেছিল  ।  খাওয়ার  লোভ  থেকে  আসে    শারীরিক  সম্পর্ক  ও  সম্পদের  প্রতি  আকর্ষণ  ।  এসব অনেক  সমস্যার  দিকে  নিয়ে যায়

 

উকবাহ  আর  রাশিবী  বলেন : আমি  আল  হাসানের  কাছে  গেলাম  যখন  তিনি খাচ্ছিলেন ।   তিনি আমাকে   তার সাথে খেতে  বললে  আমি  জানাই ,  আমি   ততক্ষণ পর্যন্ত  খেয়েছি যখন আর  খাওয়া  সম্ভব  না ।  শুনে  তিনি বলেন , সুবহান  আল্লাহ  মুসলমানরা  কি  এতটা  খায়  যখন  সে  আর  খেতে   না পারে ?

পরিমিত   খাওয়া  হচ্ছে  তাই  যখন  কিছু  ক্ষুধা  থাকতে   একজন  হাত গুটিয়ে  নেয় অর্থাৎ  খাওয়া শেষ  করে ।  এটা দেহকে  শক্তিশালী  করে  ও  অসুখকে  দূরে  রাখে  ,  কেননা  এই  ব্যক্তি  ক্ষুধা  না  লাগা পর্যন্ত  খায়  না  আর  ক্ষুধা  থাকতেই  খাওয়া শেষ  করে  অবশ্য  বেশী  কম খেলে  শরীর  দূর্বল    হয়ে যেতে পারে  ।  কিছু  মানুষ  এত কম   খেতো   যে  তারা  তাদের  কর্তব্য   পালনের  মতো  সুস্থ  থাকতো  না ।   না  জেনে    তারা  মনে করতো   এটা  ভাল অভ্যাস    কিন্ত্ত  আসলে  তা  না ।  যারা  ক্ষুধার্ত  থাকতে উৎসাহ  দিয়েছেন  ও  এই  অবস্থার প্রশংসা  করেছেন   তারা  পরিমিত খাওয়ার  কথা  বলেছেন  যা  উপরে   বলা হয়েছে

এসব  কিছু  করা  হয়   সাবধানতা  থেকে   ।   সাবধানতা  হলো  আল্লাহর  পথে  যাত্রাস্থল  । 

 রাসূল  صلى الله عليه وسلم   বলেছেন   একজন মানুষের  ধর্ম  তখন নিখুঁত  হয়    যখন  যে বিষয়ের   সাথে তার সম্পর্ক নেই  , অন্যের সেসব  বিষয়ে  সে অহেতুক  নিজেকে জড়িত করে না ।  বিনা  দরকারে   কোন  বিষয়ে  কথা বলা  ,  কোন কিছুর  দিকে  তাকানো  , শোনা , ধরা  , সেদিকে যাওয়া  বা  তা  নিয়ে  চিন্তা ভাবনা  করা , দৈহিক  বা  মানসিকভাবে  সে  বিষয়ের  সাথে  নিজেকে  জড়ানো এসব  কিছু  এই  হাদীসের আওতায়  আসবে

ইবরাহীম  বিন আদহাম  বলেন :  সাবধানতা  হলো  যা  সন্দেহজনক  তা  ত্যাগ  করা ।   যা  তোমার  সাথে সম্পর্কযুক্ত  না  এমন কিছু ত্যাগ  করা  মানে  যাতে  তোমার  দরকার  নেই , সেটাও ত্যাগ  করা ।  সাবধানতার  সবচেয়ে গূরুত্বপূর্ণ  দিক  হলো  যাতে সন্দেহ  আছে  তা থেকে দূরে  থাকা  ।  

 

যে    সন্দেহযুক্ত    বিষয়ের  সাথে  নিজেকে  জড়িয়ে ফেলে ,  সে  পাপের  সাথেও  নিজেকে  জড়িয়ে  ফেলবে  ।  পাপ  হচ্ছে   সীমানা   যা  আল্লাহ   স্থাপন  করেছেন   ।  যে    এই  সীমানার কাছে  ঘোরাফেরা  করবে ,  সে সেই  সীমানা পার  হয়ে  যাবে  (  ইমাম  বুখারী  ,  ইমাম   মুসলিম )

 

আল  বাগহাওয়ী  বলেন :  সাবধানতার  বিষয়টি যখন  আসে ,তখন  এই  হাদীসটি  খুবই  গূরুত্বপূর্ণ  ।  এটা  শেখায়  যে   কেউ  যদি  বুঝতে  না  পারে  কোনকিছু  বৈধ  না  অবৈধ  ,  তবে  সাবধানী  ব্যক্তি  তা থেকে  দূরে  থাকবে  ।  কেননা   সে যদি     তা  ত্যাগ  না করে  ,  সন্দেহযুক্ত  বিষয়  নিয়ে এগিয়ে   যায়   ও  এটাকে  অভ্যাসে  বানিয়ে  ফেলে , তবে তা  তাকে   সেখানে  নিয়ে  যাবে  যা  হারাম

 

বেশীরভাগ  সন্দেহপূর্ণ   বিষয়কে   দুই  শ্রেণীতে   ভাগ করা যায় ।  প্রথম   শ্রেণী  হলো   সেটা  যা   হালাল  না হারাম  তা নিয়ে  কোন সূত্র  খুঁজে   পাওয়া  যায়  না  ।    এই  না  থাকাটাই  নিশ্চিত  করছে  যে  একজন  এ  থেকে  দূরে  থাকবে   দ্বিতীয়  শ্রেণী  হলো   তা যার সূত্র  আছে  ও  স্পষ্ট  ভিত্তি  আছে  বলার  জন্য  যে  এটা  হালাল  বা  হারাম  ।    তাই  এ  বিষয়ে  যা  স্পষ্ট   ও প্রতিষ্ঠিত   ,  তা একজন  মেনে  নেবে  ।  এ  নিয়ে  প্রতিষ্ঠিত  মতের  বাইরে  চলে যাওয়া   উচিত  হবে  না ,যদি না  তার  এ নিয়ে  নিশ্চিত   কোন জ্ঞান  থাকে

 

যেমন  কোন     মানুষ  যদি  সন্দেহ  করে  যে  উযু  আছে   কি নেই  ,  তবে নিশ্চিত  না হওয়া পর্যন্ত  সে ইবাদত  করবে    এছাড়াও   যদি  কেউ  মরুভূমিতে   এমন  পানি পায় যা  পাক্ কি  না    তাতে  সে নিশ্চিত নয় , তবে পানির বিষয়ে যে মূল  নীতিগুলি  আছে   সে  তাতে দৃঢ়  থাকবে  ও   শয়তানের  কূ-মন্ত্রণায়  পড়বে  না

ইবনে  হাযার  رضي الله عنهم    বলেন ,   কোনটা  হালাল  তা স্পষ্ট ,  কোনটা  হারাম  তা স্পষ্ট ;  এটা বোঝায়  যে  নিয়ম   তিন  ভাগে বিভক্ত ।  কেননা  ,  প্রতিটি  বিষয়ের  জন্য  ধর্মগ্রন্থে  হয়  স্পষ্ট  নির্দেশনা   আছে  সেটার  গূরুত্ব    বিষয়ে  ও  তা   করতে  হবে  সে  নিয়ে  অথবা  স্পষ্ট  আদেশ  আছে  যে এটা ক্ষতিকর ,  এর মধ্যে  নিজেকে  জড়িয়ে   ফেলা  যাবে  না  অথবা  এই  দুই  ধরণের  কোন   বক্তব্য  নেই 

 

তাই  প্রথমটি  স্পষ্টতই  হালাল  ও  দ্বিতীয়টি   স্পষ্টতই     হারাম  ।  তাই  রাসূল صلى الله عليه وسلم  যখন  বলেন  ,   কোনটা   হালাল  তা স্পষ্ট  ,  তখন  তিনি  বুঝিয়েছেন    এতে  অতিরিক্ত  কোন  ব্যাখ্যার  দরকার  নেই   ও  এটা  সবার  জানা

 

তৃতীয় ভাগটি  হলো  অস্পষ্ট  ।  যারা সতর্ক  থাকতে পছন্দ  করে  তারা  এটাকে ভয়  পায়  কেননা   তারা জানে  না  এটা  হালাল  না হারাম  ।   এক্ষেত্রে    সে  এটা  এড়িয়ে  চলবে  ।  কেননা  , যদি  এটা  হারাম হয়  তবে সে নিরাপদ  থাকলো  ।  আর যদি হালাল  হয়  , তবে ভাল  নিয়তে  এটা  না করার  জন্য  সে  পুরষ্কার  পাবে  

 

তাই জ্ঞানের সন্ধানীরা  জীবনের  সব  ক্ষেত্রে  সাবধান  থাকবে  ।  খাবার , পানীয়  , কাপড়  ও  আবাস  যেন  হালাল  হয়  সেদিকে  তারা  বিশেষভাবে  লক্ষ্য  রাখবে  ।   সে  ও  তার  পরিবারের  সদস্যদের   যা  যা   দরকার   হয় , সেসব  বিষয়ে   এই  সাবধান  থাকার  মত  সে  প্রয়োগ  করবে  যেন    তার মন  আলোকিত  হতে  পারে  ।  এভাবে   সে জ্ঞানের  আলো  পেতে  নিজেকে   অভ্যস্থ  করবে   এবং  এ   থেকে  কল্যাণ  পাবে

যা  সব  হালাল  , সেসবের  প্রতিও   সে বেশী  বেশী  ঝুঁকে পড়বে  না  যদি  সে  সাবধান  থাকে  ও  সে  সবে  তার  দরকার  না থাকে ।  সে  হালাল  জিনিষও  বেশী বেশী  উপভোগ  করবে  না বরং  সে উচ্চতর স্তরের  খোঁজ  করবে   ও  অতীতের  সঠিক  পথের  জ্ঞানীদের  অনুসরণ  করবে ।  তারা যা  হালাল ছিল  সে  বিষয়েও  সাবধানতা  অবলম্বন করতেন  ।    ছাত্ররা  যাকে সবচেয়ে  বেশী  অনুসরণ  করার  চেষ্টা  করবে  তিনি  হলেন   আল্লাহর  রাসূল  صلى الله عليه وسلم  ।

 

রাসূল  صلى الله عليه وسلم    রাস্তায়  পড়ে  থাকা   কোন   একটি  খেজুরও  খেতেন   না  এই  ভয়ে  যে যদি  এটা  দানের  হয়ে  থাকে ;  যদিও  এমনটি  না   হওয়াটাই  ছিল স্বাভাবিক  ।   

 

জ্ঞানের সন্ধানকারীরা   অবশ্যই  এসব  অনুসরণ  করবে  ;   তারা  যদি  সাবধানতা  অবলম্বন  না  করে  তবে  কারা   তা  করবে ?   আনাস  رضي الله عنهم    বলেন   :   রাসূল   صلى الله عليه وسلم    রাস্তায়    একটি খেজুর  দেখতে  পান  যা  গাছ  থেকে  পড়েছিল  ।  তিনি বলেন :  এটা  হয়তো  দানের  হতে পারে  ।  তা না হলে   আমি  এটা  খেতাম  (  বুখারী , মুসলিম )


আবু  হুরায়রা  رضي الله عنهم    বলেন   :   রাসূল  صلى الله عليه وسلم    বলেছেন ,  আমি  আমার  পরিবারের  কাছে গেলাম  ও  আমার বিছানায়  একটি খেজুর  দেখতে  পেলাম  ।  আমি  সেটা  সেটা  মুখের  কাছে   আনলাম  খাওয়ার  জন্য  , তারপর ভয়  পেলাম  যে এটা  দানের  হতে  পারে  ।  তাই   আমি  তা  নামিয়ে  রাখলাম

 

ইবনে  হাজার   বলেন :   এখানে   রাসূল  صلى الله عليه وسلم   নির্দিষ্টভাবে  উল্লেখ  করেন যে  তিনি খেজুর  বিছানায়  পেয়েছিলেন  ।  তারপরেও  তিনি  সাবধানতা  হিসাবে  সেটা খান নি ।  আন নাওয়ায়ী  বলেন ,  এই  হাদীস  সাবধানতার  একটি  উদাহরণ  ।  খেজুরটি  খাওয়া  হারাম  ছিল  না   এই সন্দেহ  করে  যে  এটি  দানের  হতে  পারে  ; বরং  এটি  সাবধানতা  থেকে করা হয়েছে  ( মুসলিম)

 

যিকির  করা  :

 

 

সবচেয়ে  গূরুত্বপূর্ণ   যে  বিষয়ে  ছাত্ররা  বিশেষভাবে  সাবধান  থাকবে  তা হলো  , সব  পরিস্থিতিতে   আল্লাহকে   মনে   করা  বা যিকির  করা

একজন  যা চায়  তা  পাওয়ার  সেরা  উপায়  হলো  আল্লাহর  যিকির   ।  যে  এই  পথ  থেকে  ফিরে  যায়  ,  সে  অবশ্যই  সব  কল্যাণ  থেকে   দূরে  থাকলো  ও  সঠিক  পথ  থেকে  সরে  গেল

 

যে  এই  পথে  পরিচালিত  হলো  সে  সত্যিই   হেদায়েতপ্রাপ্ত   ও  সেরা  নেতা  এবং  পথপ্রদর্শক  দিয়ে পরিচালিত ইবনে    আল কাইয়াম   বলেন  :  আল্লাহর  দিকে ছুটে  যাওয়া  ,  তাঁর  উপর  নির্ভর  করা  ,  তাঁর  প্রতি  সন্ত্তষ্ট  থাকা  ,  আল্লাহর  জন্য  ভালবাসায়  মন  পূর্ণ  করা , সবসময়  যিকির  করা  , আল্লাহকে  জানার  আনন্দ  -  এ সব  কিছুর  পুরষ্কার  সাথেসাথে  পাওয়া  যায়  ।  এ হলো  দুনিয়ার  বেহেশত  ও  এমন  একটি  জীবন  যার  সাথে  রাজা  - বাদশাহর  জীবনও  তুলনা  করা  যায়  না

 

আমি শুনেছি  শেখ  আল  ইসলাম  ইবনে  তাইমিয়াহ رضي الله عنهم    বলেন   :    অবশ্যই  এই  দুনিয়ায়  একটি বেহেশত  আছে  ।  যে  এখানে  ঢুকবে  না ,  সে পরকালের  বেহেশতও   ঢুকতে  পারবে  না ।  একবার  তিনি  আমাকে বলেন :   শত্রুরা   আমার  কী  করবে ?  আমার  বেহেশত  ও  বাগান  আমার  বুকের  ভিতরে  আমি যেখানেই  যাই  না কেন   ,   এই  দুইটি  আমার  সাথে  থাকে  বন্দী জীবন  হলো  আল্লাহর  সাথে  আমার    একান্ত  সান্নিধ্য ,    আমার  নিহত  হওয়া  হলো  শহীদের  মৃত্যু  ও  দেশ  থেকে নির্বাসন  হলো  আমার সফর

আল্লাহ  জানেন  ,  আমি  শেখ  ইসলাম ইবনে  তাইমিয়াহ  رضي الله عنهم  এর  মতো

এমন  পবিত্র  জীবনের  অধিকারী  আর  কাউকে   পাই  নি  যদিও  তিনি  কঠিন  সব  বিপদ  ,  অত্যন্ত  দু:খ  - কষ্টের   মধ্যে  বন্দী   ও  খুন  হওয়ার  আশংকার মধ্যে  ছিলেন  ।  এত সব কিছুর  মধ্যে   তিনি  পাক পবিত্র জীবনযাপন  করতেন  ;  দৃঢ়  ও উদার   মনের  ছিলেন  ; আধ্যাত্মিকভাবে  সুখী  আত্মা   ও  আলোকিত  চেহারার অধিকারী  ছিলেন  

যখন  আমরা ভয়  পেতাম  ,  মনে  খারাপ  চিন্তা  আসতো , মনে  হতো  দুনিয়া  শ্বাসরোধ  করে  দিচ্ছে  আমাদের  -  তখন  আমরা  তার  কাছে  ছুটে  যেতাম  ।  শুধু  তাকে  দেখে  ও   তার  কথা  শুনেই  ভয়  ,  দু:চিন্তা   দূর   হয়ে  আমরা   আশ্বস্ত   হতাম 

সব প্রশংসা  আল্লাহর যিনি  তাঁর  সাথে সাক্ষাতের আগেই  দাসদের  জন্য  এই দুনিয়ায়  বেহেশত  দেখার অনুমতি  দিয়েছেন  ও  সেই  বেহেশতের দরজা খুলে  দিয়েছেন ; এর  স্বাদ ও আনন্দের  ভাগ দিয়েছেন যার জন্য দাস তার শক্তি , সামর্থ্য  উৎসর্গ করেছিল

 

কিছু জ্ঞানী মানুষ বলেন  যদি রাজারা  ও তাদের ছেলেরা  জানতো আমরা  কী  অভিজ্ঞতা লাভ করছি , তাহলে  তা পাওয়ার  জন্য  তরবারী  নিয়ে  আমাদের সাথে লড়াই  করতো

 

 

আরেকজন  বলেন :   সেই   মানুষ   বন্ঞ্চিত  ,  যারা  এই দুনিয়া  ছেড়ে   চলে  গেল  সবচেয়ে উপভোগ্য  জিনিষটির  স্বাদ না পেয়ে  ।  তাকে প্রশ্ন করা হলো সেটা কী ? তিনি বললেন ,  আল্লাহর  ভালবাসা , তাঁকে  জানা  ও  তাঁকে  মনে  করা  ভালবাসা , জ্ঞান  ও  সবসময়  যিকির  করা ;  তাঁর  দিকে  ঝুঁকে  পড়া , তাঁর স্মরণে  শান্তি লাভ , ভালবাসা , ভয় , আশা , নির্ভরতা  ও মনোযোগ সবই  আল্লাহর  জন্য ;  এই  দুনিয়ার  বেহেশত  ও  তার  আনন্দের  সাথে  এখানকার  অন্য  আনন্দের  তুলনা হয়  না ।  যারা  আল্লাহকে  ভালবাসে , তাদের জন্য  এটা   চোখের শান্তি  এবং যারা তাকে জানে তাদের জন্য  এটাই  সত্যিকারের  জীবন

 

 

ইবনে  আল  কাইয়াম  বলেন :  আমি  শেখ  আল  ইসলাম  ইবনে  তাইমিয়াহর  সাথে  একদিন  ছিলাম যখন তিনি ফজরের সালাত পড়ছিলেন ।  এরপর  তিনি যিকির  করতে থাকেন  দুপুরের  আগে পর্যন্ত ।  আমার  দিকে ফিরে  তিনি  বললেন , এটাই  আমার খাবার ।  যদি  আমি  এটা না পাই , তবে আমি মুক্তি পাবো  না

একবার  তিনি আমাকে  বলেছিলেন :  আমি যিকির থেকে কখনোই  বিরত  হই  না ।  ব্যতিক্রম হলো ,  এই  ইচ্ছা  নিয়ে আমি মাঝেমাঝে   বিশ্রাম  নেই  যাতে শক্তি সঞ্চয় করে  আরো বেশী   যিকির  করতে  পারি

তামা , রূপা  ইত্যাদিতে যেমন মরিচা পড়ে , তেমনি  মনেও  মরিচা  ধরে ।  একে  উজ্জ্বল করতে হয়  যিকির  দিয়ে ।  মনকে   চকচকে  আয়নার মতো পরিষ্কার করে যিকির ।  মনকে যদি  খালি  রাখো , এটায়  আবারো  মরিচা  ধরবে ।  যদি  আল্লাহকে  স্মরণ করো , এটা আবারো চকচকে হবে ।  মনে মরিচা  পড়ে  দুইটি  কারণে  :  অসাবধানতা   ও পাপ

 

তওবা  ও  যিকিরে  এই   মরিচা  দূর  হয়  ।  তাই  যে  বেশী   অসাবধান  , তার মনে   বেশী  মরিচা  ধরে  ।   যার মনে মরিচা  ধরে , সে  আর  কোনকিছুর  আসল  চেহারা  দেখতে  পায়  না ।  তাই  সে মিথ্যাকে  সত্য  দেখবে   আর  সত্যকে   মিথ্যা  জানবে

 

তাই  যদি  মরিচা  বাড়ে   আর  মনকে   অন্ধকার  করে  ফেলে  ,  তাহলে  তার  বোঝার  ক্ষমতা  নষ্ট  হয়ে  যাবে  ।  সে   আর  সত্যকে   সত্য  বলে মানতে  পারবে  না ; মিথ্যাকে  মিথ্যা বলে  অস্বীকার করবে  না  ।  এটা হচ্ছে    মনের   জন্য   সবচেয়ে    বড়  শাস্তি  ।    এ  সবকিছু  আসে  অসাবধানতা  থেকে  ও  নফসের   ইচ্ছামতো   চললে অর্থাৎ  মনের  ইচ্ছার  বশ হলে ।  তখন মনের  আলো  নিভে  যায়  ও মন  অন্ধ  হয়

তুমি তার আনুগত্য করবে  না  যার মনকে আমি   আমার স্মরণে অমনোযোগী  করে  দিয়েছি  , যে  তার খেয়াল খুশীর  অনুসরণ করে  ও  যার কাজ সীমা  লংঘন করে   ( সুরা  কাহফ ;  ১৮ :  ২৮)

তাই  আল্লাহর  কোন  দাস  যদি  কাউকে  অনুসরণ  করতে চায়  , তাহলে  সে  দেখবে এ  কি  তাদের  মধ্যে  যারা  আল্লাহকে স্মরণ  করে  ,  না  কি  এ  অসাবধানীদের  দলে ?  এ  কি  নিজের  খেয়ালখুশীতে  চলে   না  ওহী  মেনে  চলে ?   তাই   সে যদি  নিজের নফসকে   গূরুত্ব  দেয়  ও অসাবধানীদের   দলের  হয়  ,  তাহলে   সে  ক্ষতিগ্রস্থ  ।  তার  সব  কাজ , সাফল্য  নষ্ট হয়ে  যাবে  ।   এগুলি    অপচয়  কেননা  এসব  তার  কোন  কাজে  আসবে  না  ।  এ   হচ্ছে    সত্যের  বিপরীত  ।  এমন  লোকদের  মেনে  চলতে   আল্লাহ  মানা  করেছেন ।  তাই   একজন    তার  শিক্ষক  ও  নেতার   আদর্শ  কী   তা  খেয়াল  করবে  ।  যদি  এসব  দোষ  তাদের থাকে , তবে  সে  তাদেরকে  এড়িয়ে  চলবে  ।  যদি   সে  এমন  কাউকে পায়  যে  সবসময়  আল্লাহকে  স্মরণ  করে  ,  সুন্নাহ  মেনে চলে  ও  যার   আমল  নষ্ট হয়  নি    ,  সে   তার  সাথে  ঘনিষ্ঠ  হবে  ।  জীবিত  ও  মৃত  মানুষের   মধ্যে    একমাত্র  পার্থক্য  হলো  আল্লাহর  স্মরণ  ।  যে  তার  রবকে  স্মরণ  করে  ও যে তা  করে  না  ,  তারা হলো  জীবিত  ও  মৃত  মানুষের  মতো

 

 

শেখ  আল  ইসলাম  ইবনে  তাইমিয়াহ  رضي الله عنهم    বলেন   :   অনেক  সময়  আমি  একটি আয়াতের  বিভিন্ন   ব্যাখ্যা    পাই ।  তখন আমি  আল্লাহকে  বলি  , আমি  যেন  আয়াতের  সঠিক মানে বুঝতে  পারি  ।   আমি  এভাবে বলি :  হে  আদম  আলাইহিস সালাম   ও  ইবরাহিম আলাইহিস সালামের  শিক্ষক  , আমাকে শেখান    আমি  কোন  পরিত্যক্ত    মসজিদে  যাই  ,  সিজদা করি   ও আল্লাহকে  বলি : হে  ইবরাহিম আলাইহিস সালামের  শিক্ষক  , আমাকে শেখান   রাসূল صلى الله عليه وسلم  বলেন  , যে  তার  প্রভুকে  স্মরণ করে  ও  যে  তা করে না , তারা হলো জীবিত  ও  মৃত  মানুষের  মতো 

(   বর্ণনায়  আবু  মুসা  আল  আশারী  رضي الله عنهم  ; বুখারী হাদীস )

ইমাম  মুসলিম  رضي الله عنهم    বলেন  যে ঘরে   আল্লাহকে  স্মরণ  করা হয়  ও  যে ঘরে  তা  করা হয়  না , সে  দুইটি  হলো  জীবিত  ও  মৃত  মানুষের   ঘরের মতো

আশ  সাওকানি   رضي الله عنهم   বলেন , আল্লাহর  যিকিরের  চমৎকার সৌন্দর্য  ও পবিত্র মাহাত্ম্য   এই  রূপকের মাধ্যমে  তুলে ধরা  হয়েছে ।  এটা  দেখায়  , আল্লাহকে যে  ভুলে  থাকে , যদিও  সে  আক্ষরিক অর্থে  জীবিত ,   আসলে  সে বেঁচে  নেই  ।  বরং  সে মরা মানুষের  মতো  ।  জীবিত  মানুষ   যেভাবে  আল্লাহর  আদেশ  মেনে  চলে , মৃত  মানুষ  তা  করতে  পারে  না 

 

 

এই  হাদীসে  যা    আছে  তা কুরআনের  আয়াতেও    বলা  হয়েছে :

 যে মৃত  ছিল  , যাকে আমি  পরে জীবিত করেছি ......(  সুরা  আল  আনাম ; ৬ : ১২২ )

 

এর  মানে  অবিশ্বাসীরা  মরা  মানুষের মতো  আর  ইসলামের  পথে  পরিচালিত   হওয়া মানে    জীবন

আল- বুখারী   তার  বইতে  একটি  অধ্যায়  লিখেছেন  এই  শিরোনামে :  আল্লাহর যিকিরের  মাহাত্ম্য  ।  এই  অধ্যায়ে  তিনি  উপরে  আবু  মুসা  ও  আবু  হুরায়রার  উল্লেখ করা   হাদীসের কথা  লিখেছেন ।  এতে  বলা  আছে , রাসূল صلى الله عليه وسلم  বলেছেন :  আল্লাহর  কিছু   ফিরিশতা  রাস্তায়  রাস্তায় ঘুরে  বেড়ায়  তাদের  খোঁজে , যারা  আল্লাহর  যিকির করে ।  যদি তারা   এমন  কাউকে  পায়  ,  তারা  তখন  অন্য  ফিরিশতাদের  ডাক   দিয়ে   বলে  -  আসো ,  তুমি  যাদেরকে  খুঁজে  বেড়াচ্ছো  তাদেরকে  দেখে  যাও

তখন  আকাশ   পর্যন্ত  ডানা  মেলে   দিয়ে  ফিরিশতারা   যিকিরকারীকে  ঘিরে  ধরে  ।    তাদের  রব  প্রশ্ন করেন  যদিও  তিনি  তাদের থেকে  বেশী  জানেন  -  আমার   দাসরা  কী  বলছে  ?

 

 

ফিরিশতারা  জবাব  দেয়   : তারা  বলে   সুবহান  আল্লাহ  ,  আল্লাহু  আকবর  ও  আলহামদুলিল্লাহ ।   আল্লাহ   তখন  বলেন   :  ওরা  কি  আমাকে  দেখেছে ?  ফিরিশতারা  বলে :  না  , আপনার শপথ  , তারা  আপনাকে  দেখে  নি

 

আল্লাহ  বলেন : যদি  তারা  আমাকে  দেখতো  তাহলে  তারা  কী   করতো ?

 

ফিরিশতারা  জবাব  দেয় :  যদি তারা  আপনাকে দেখতো , তাহলে   তারা  আরো  আন্তরিকভাবে  আপনার  ইবাদত  করতো  ,  আরো  বেশী  করে  আপনার  প্রশংসা  করতো  এবং সৃষ্ট   কোন

কিছুর  মতো  হওয়া  থেকে  আপনার  মুক্ত  থাকার  বিষয়টি   আরো  বেশী  বেশী  করে  ঘোষণা  করতো

 

আল্লাহ   বলবেন :  তারা  আমার  কাছে  কী  চায়  ?  ফিরিশতাদের  জবাব :  তারা  বেহেশত  চায়  ।  আল্লাহ  বলেন :  তারা  কি  সেটা   দেখেছে ?   ফিরিশতারা বলে ,  না  , ও  প্রভু  , আপনার  শপথ তারা বেহেশত  দেখে  নি   আল্লাহ  বলেন : যদি  তারা  এটা  দেখতো  তাহলে  তারা  কী   করতো ?

 

 

ফিরিশতারা  বলে  :  যদি তারা  তা  দেখতো , তাহলে    আরো  বেশী করে তারা  এটা  চাইতো  ,  বেহেশত  পাওয়ার  আগ্রহ  অনেক  বেশী  হতো ।  আল্লাহ   বলেন :  তারা   কী থেকে আশ্রয়  চায়  ?  ফিরিশতারা  বলে  :    তারা  আগুন  থেকে  আপনার  আশ্রয়  চায়

আল্লাহ  বলেন , তারা কী  এটা  দেখেছে ?  ফিরিশতারা বলে ,  না ,  ও  আল্লাহ  ।  তারা এটা দেখে নি আল্লাহ  বলেন : যদি  তারা  এটা  দেখতো  তাহলে    কী   হতো ?

 

 

ফিরিশতারা  বলে  :  যদি তারা  তা  দেখতো , তাহলে   তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে যেত আর এ আগুনকে  খুবই ভয় পেত তখন আল্লাহ  বলবেন , আমি   তোমাদেরকে সাক্ষী করলাম  যে  এদেরকে  মাফ করা হলো

একজন  ফিরিশতা  তখন  বলবে :   সেখানে  এমন  একজন লোক  ছিল  যে এদের মতো ছিল  না বরং  সে তার কোন  এক  দরকারে সেখানে গিয়েছিল

আল্লাহ  বলবেন :  এরা এমন  মানুষ  যাদের সাথীরা  দু:খিত হবে না ( সহীহ বুখারী ) ।  আল হাফিয  ইবনে  হাযার  رضي الله عنهم    বলেন  :  আল্লাহকে  স্মরণ  করার মানে  হলো যে সব শব্দ বলতে  উৎসাহ   দেয়া  হয়েছে  তা বলা  ও  এই যিকির  সবসময়  করা ।  যেমন ,  এগুলি  বলা :  সুবহান আল্লাহ  (  সব  মহিমা  আল্লাহর ) ;  আলহামদুলিল্লাহ ( সব প্রশংসা আল্লাহর ) ;  লা  ইলাহা  ইল্লাললাহ  ( নেই  কোন  রব  আল্লাহ  ছাড়া  ) ;  আল্লাহু  আকবর  (  আল্লাহ  শ্রেষ্ঠ ) ,  লা  হাওলা  ওয়ালা  কুয়াআতা   ইল্লা  বিল্লাহ  (  আল্লাহ  ছাড়া  আর কারো  কোন   ক্ষমতা   নেই ) ,  বিসমিল্লাহ  (  আল্লাহর  নামে শুরু ) ,  হাসবুনা আল্লাহ  ওয়া নিমাআল  ওয়াকিল (  আল্লাহই  আমাদের   জন্য  যথেষ্ট  )  ও   তিনি  সেরা  মীমাংসাকারী

 

 

এসবের  পাশাপাশি  আল্লাহর  ক্ষমা  চাইতেই   হবে  ও  এই  দুনিয়া  এবং  পরকালের  জন্য  কল্যাণ  চাইতে   হবে

 

 

আল্লাহ  যা  করতে  আদেশ  বা  উৎসাহ  দিয়েছেন  যেমন   কুরআন  তেলাওয়াত  ,  হাদীস  পড়া ,  জ্ঞান  চর্চা  ,  নফল  ইবাদত  ইত্যাদি  আল্লাহকে  স্মরণ  করার  অন্তর্ভূক্ত 

 

যিকির  অনেক   সময়  জিহবা  দিয়ে  শুধু  করা  হয় -  যা বলা  হচ্ছে  তার  মানে  না  জেনেও  ,  আল্লাহর  নাম   বলার  জন্য যিকিরকারী  পুরষ্কার  পাবে ।  তবে মানে জেনে নিয়ে যিকির করা  ও  শুধু জিহবা  না বরং মন   থেকেও  সে সব বললে   তা    বেশী ভাল ।   আল্লাহর মহিমা বর্ণনা  করা  হয়  যে  সব শব্দ  দিয়ে  ও  আল্লাহর  কোন  দোষ ত্রুটি  আছে  এমন  কথা  অস্বীকার  করা  হয়  যা  দিয়ে  -  সে   সব  বুঝে  বলা  বেশী  ভাল  ।  যদি  যিকিরকারী   সঠিক  কোন  কাজ   যেমন  ইবাদত , জিহাদ  এসবের  মধ্যে  যিকির   করে , তবে  তা  যিকিরের   মাহাত্ম্য  বাড়ায় ।  যদি  যিকিরকারী    আল্লাহর  দিকে  পুরোপুরি  চলে যায়  ও  আন্তরিক  থাকে  সে যা করছে তাতে , তাহলে  সেটা সবচেয়ে  ভাল  ও প্রায়  পরিপূর্ণ  একটি  কাজ

 

 

 

 

 

ইমাম  মুসলিম  رضي الله عنهم  এর  বর্ণিত হাদীস  : যে  ঘরে  আল্লাহকে  স্মরণ  করা হয় ও যে ঘরে তা করা হয় না ,  সে দুটি  হলো যেন জীবিত  ও মৃত মানুষের ঘর । ইবনে হাজার  এ নিয়ে  বলেন , এখানে আসলে ঘরে যারা থাকে তাদের কথা বোঝানো হয়েছে , ঘরের কথা বলা হয়  নি ।  কোন ঘর  জীবিত   না মৃত  মানে তার  বাসিন্দারা  বেঁচে আছে  না  মারা গিয়েছে ।  যে ব্যক্তি  আল্লাহকে   স্মরণ  করে , তার সম্পর্কে   রাসুল  صلى الله عليه وسلم  বলেছেন ,  সে  এমন  একজন , যার বাইরের   দিক  জীবনের  আলো  দিয়ে সুন্দর ও  ভিতরের  দিক  সুন্দর জ্ঞানের  আলো  দিয়ে  -  এ বেঁচে  আছে । 

 

 

 

 

যে  আল্লাহর  যিকির  করে  না  ,  সে  সবদিক  থেকে  ধ্বংস  হয়েছে আরো বলা  হয়েছে  , জীবিত  ও মৃত  মানুষের  মতো  মানে   হলো   যে  বেঁচে  আছে   সে বন্ধুদের  ক্ষতি  করতে  পারে  যা  মৃত  মানুষ  পারে  না ।  যারা   যিকিরকে  দৃঢ়ভাবে ধরেছে , তারা জ্ঞানী ।  তারা এমন  যেন   খাড়া পাহাড়ের পাশ  দিয়ে  তাড়াতাড়ি  চলে যায়  ও  যেখানে যেতে চায়  সেদিকে  সঠিকভাবে  পরিচালিত  হয় ।    যিকির  ছাড়া  চলার চেষ্টা  করলে   তাদের  পা  ধীরগতির  হয়ে যাবে  ,  মনে মরিচা  ধরবে  ও  তারা পথ  হারিয়ে  ফেলবে   -  যেমনটি  বলা হয় -  যদি আমরা  অসুস্থ  হই  , যিকির দিয়ে   নিজেদের  চিকিৎসা  করি  ।  যদি  এক মুহুর্তের  জন্যও    যিকির  থেকে  বিরত  হই  , তাহলে  আমরা  হতাশায়  ভুগি

Share this post


Link to post
Share on other sites

aa.gif


 

 

 

 

 

৫. খাওয়া, ঘুম ও কথা - যত কম তত ভাল:

আমরা আগে এ নিয়ে আলোচনা করেছি যে ছাত্ররা অবশ্যই কম খাবে ও যা হালাল তা খাবেপেটের লোভ থেকে মুক্তি পাবার উপায় হলো অল্পতে খুশী থাকা

একজন ধীরে ধীরে তার খাওয়া কমাবে যেন পরিমিত পর্যায়ে সে আসতে পারবে - মধ্যম পন্থাই সেরাসে এই পরিমাণ খাবে যেন শক্তি বজায় থাকে ও ইবাদত ঠিকমতো করতে পারেসে অনাহারেও থাকবে না আবার ভরপেটও খাবে না তখন সে সুস্থ থাকবে, তার আকাংখা উঁচু স্তরে যাবে ও বিবেক পরিষ্কার থাকবেসে যদি পরিমিত মাত্রার চেয়ে বেশী খায়, তাহলে সে বেশী ঘুমাবে ও তার বুদ্ধিমত্তা নীচু স্তরে থাকবে

খাওয়া হালাল হওয়াটা সব মুসলমানের জন্য দরকার, বিশেষ করে যারা জ্ঞানের সন্ধানে আছে তাদের জন্য আরো বেশী দরকারকেননা, এরা হলো হালাল হারামের জ্ঞানের সুরক্ষিত স্থানআমরা আগেই বলেছি খাওয়া ও পানীয়ের বিষয়ে কিভাবে সাবধান হওয়া উচিত
রাসূল صلى الله عليه وسلم কিভাবে একটি খেজুর খেতে গিয়েও খান নি এই ভেবে যে, হয়তো সেটি দানের আর দান গ্রহণ নবী صلى الله عليه وسلم এর জন্য বৈধ ছিল না

খাওয়া নিয়ে বেশী চিন্তা করার সময় নেই যে ছাত্রের, সে মোটা হবে নাবরং জ্ঞানের প্রতি অনুরাগে সে খাওয়ার কথা ভুলে থাকবে

শেখ আল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কখনো খাবার চাইতেন নাতিনি জ্ঞান চর্চায় এতটাই মগ্ন থাকতেন যে খাবার দেয়া হলে অনেক সময় তা পড়ে থাকতোমাঝেমাঝে তিনি সেখান থেকে অল্প কিছু নিয়ে খেতেন
তিনি কখনো এই দুনিয়ার ভোগ বিলাস আনন্দ নিয়ে কিছু বলতেন না বা এসব কিছু চাইতেন নাবরং তার সব ভাবনা ও কথাবার্তা ছিল পরকালকে নিয়ে এবং কিভাবে আল্লাহর আরো ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে যাওয়া যায় সেটা নিয়ে

আন নুমান বিন বাসির বলেন, উমর বিন আল খাত্তাব رضي الله عنهم বলেছিলেন কিভাবে মানুষ অভাবের সাথে লড়াই করতোরাসূল صلى الله عليه وسلم একবার সারাদিন অনাহারে কষ্ট পান - নীচু মানের কোন খেজুরও তিনি সেদিন খেতে পারেন নি ( সহীহ মুসলিম )

আবু হুরায়রা رضي الله عنهم একবার একদল মানুষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা ভেড়ার ভাজা মাংস খাচ্ছিলোতারা তাকে দাওয়াত দিলে আবু হুরায়রা রাজী হলেন নাতিনি বললেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم এই দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছেন পেট ভরে এমন কি রুটি না খেয়েই ( সহীহ বুখারী )

আনাস বিন মালিক رضي الله عنهم বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم কখনো টেবিলে বসে বা একাকী প্লেটে কিছু খান নিতিনি আমৃত্যু চিকন, ভালভাবে ভাজা রুটি কখনো খান নি ( সহীহ বুখারী )

ঘুম

ছাত্ররা ঘুমের সময় কমাবে এতদূর পর্যন্ত যেন শরীর মনের ক্ষতি না হয়আট ঘন্টার বেশী তার ঘুমানো উচিত নাসারাদিনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় এটি ও যদি সম্ভব হয় সে আরো কম ঘুমাবে

আস যারলুমি رضي الله عنهم বলেন: আল হাসান বিন যিয়াদ আশি বছর বয়সে পড়াশোনা শুরু করেনএর পরের চল্লিশ বছর তিনি সারা রাত বিছানায় ঘুমান নিমুহাম্মদ বিন আল হাসান আশ সায়বানী (রহঃ) রাতে একদমই ঘুমাতেন নাতিনি নিজের সামনে অনেক বই রাখতেনযদি কোন বই পড়তে পড়তে বিরক্তি বোধ করতেন, তাহলে অন্য বই নিয়ে পড়তে শুরু করতেনতিনি সামনে পানি রাখতেন ঘুম তাড়ানোর জন্য, বলতেন: ঘুম আসে গরম থেকে আর একজন শীতল পানি দিয়ে ঘুম তাড়াবে

আবু হুরায়রা رضي الله عنهم বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যখন কেউ ঘুমাতে যায়, তখন শয়তান তার ঘাড়ে তিনটি বাঁধন দেয় এই বলতে বলতে যে -তোমার সামনে অনেক লম্বা রাত রয়েছে, তাই ঘুমাতে থাকোকেউ যখন জেগে উঠে আল্লাহর নাম নেয়, তখন একটি বাঁধন ঢিলা হয়সে যদি উযু করে, তখন দুইটি বাঁধন ঢিলা হয়সে যদি সালাত আদায় করে তাহলে সব বাঁধন ঢিলা হয়ে যায় ও সকালে সে ভাল মেজাজে থাকে ও কাজ করতে পারেতা না হলে সে খারাপ মেজাজে থাকে ও সকালে অলসতা বোধ করবে ( বুখারী ও মুসলিম )

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ رضي الله عنهم বলেন, এক লোকের কথা বলা হয়েছিল যে সকাল হওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়েছিলরাসূল صلى الله عليه وسلم এ নিয়ে বলেছেন, এমন মানুষের কানে শয়তান পেশাব করে ( বুখারী ও মুসলিম )

আল্লাহ সঠিক পথের মানুষদের প্রশংসা করেছেন, তারা ভাল কাজ করে বলে উল্লেখ করেছেন - সেটা হলো তারা রাতে কম ঘুমায় ( সূরা যারিয়াত; ৫১: ১৫-১৯ )

ইবনে কাসির رضي الله عنهم বলেন, আল্লাহ যে বলেছেন তাদের রব যে সম্পদ দান করেছেন, তারা তা উপভোগ করবে - যেহেতু তারা সঠিক পথের মানুষ ছিল,তারা বেহেশতে রবের দেয়া সব ধরণের আনন্দ, রহমত ভোগ করছে

আল্লাহর এই কথা অবশ্যই তারা ছিল বোঝাচ্ছে দুনিয়ার জীবনের কথা তারা ভাল কাজ করে বলতে বোঝানো হয়েছে যা সূরা হাক্কাতেও বলা হয়েছে পানাহার করো তৃপ্তির সাথে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে ( ৬৯: ২৪ )

আল্লাহ বলেছেন তারা কী ভাল কাজ করতো - রাতে তারা কম ঘুমাতো ইবনে জারীর আল বাসরী বলেন: তারা ইবাদতের জন্য রাত জাগে ও খুব কমই ঘুমায়

আল হাসান আল বাসরী (রহঃ) বলেন: তারা রাত জেগে ইবাদত করে ও খুব অল্প সময় ঘুমায়এরপর সামর্থ্য থাকলে তারা ইসতিগফার করে ভোর হওয়া পর্যন্ত

আশ সাদী رضي الله عنهم বলেন, তারা ভাল কাজ করতো, খুব কম বিশ্রাম নিত ও ঘুমাতোরাতে বেশীরভাগ সময় তারা রবের প্রতি মনোযোগী থাকে - সেটা হয় সালাত, নয়তো কুরআন তেলাওয়াত, যিকির, দুআ, আল্লাহর কাছে বিনীত হওয়া ইত্যাদিশেষ রাতে তারা আল্লাহর কাছে মাফ চায় যেন তারা সকাল না হওয়া পর্যন্ত ইবাদত করে যেতে পারেএরপর তারা রাতের ইবাদত শেষ করে ইসতিগফার করে ইসতিগফার হলো পাপের জন্য তওবাহ করা

যে জ্ঞানের সন্ধান করছে, বেশী ঘুম তার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য নাতারা এ থেকে যতটুকু সম্ভব দূরে থাকবেনতারা চিন্তাশীল ও নিবেদিতপ্রাণ হবেনযত ভাল কাজই তারা করুন না কেন, তাতে তারা সন্তুষ্ট হবেন না যতক্ষণ না বেহেশতে যেতে পারছেন

রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে

আন নাওয়ায়ী বলেন, কেউ কিছু বলতে চাইলে সেটাই বলবে যা ভাল, প্রশংসার যোগ্য; ফরয বা যা বলতে সুপারিশ করা হয়েছে

এমন কিছু সে বলবে না যা বলা নিষেধ, অপছন্দীয় বা বলার অনুমতি আছে - তবে এসবই একএসব ক্ষেত্রে যা বলার অনুমতি আছে সেটা বলবে না এই ভয় থেকে যে, তা হয়তো নিষিদ্ধ বা অপছন্দীয় কথাবার্তার দিকে নিয়ে যাবে - এমনটি ঘটে

উপরের হাদীসের আলোকে ইমাম শাফেয়ী رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন, তুমি যদি কিছু বলতে চাও, তবে আগে চিন্তা করোযদি মনে করো এতে কোন ক্ষতি নেই, তাহলে তা বলোযদি মনে করো এটা বললে ক্ষতি হবে, তাহলে চুপ থাকো

ইবনে হাজার رضي الله عنهم (রহঃ) বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم অল্প কথায় এই হাদীসে অনেক কিছু বুঝিয়েছেন

কথা হয় ভাল বা খারাপ বা এই দুইয়ের যে কোন একটির দিকে হেলে থাকেভাল কথার অন্তর্ভূক্ত হলো যা ফরয বা সুপারিশ মুলকরাসূল صلى الله عليه وسلم এটা বলতে বা যে কথা এদিকে নিয়ে যাবে তা বলার অনুমতি দিয়েছেন, যদিও এটা অনেক রকমের হয়খারাপ কথা বা যা খারাপ কথার দিকে নিয়ে যাবে, তা বলতে রাসূল صلى الله عليه وسلم মানা করেছেনইবনে আল বার رضي الله عنهم বলেন, জ্ঞানীরা যে সব পরীক্ষার মুখোমুখি হোন তার একটি হলো, তিনি শোনার চেয়ে কথা বলতে বেশী পছন্দ করেন

ইয়াযিদ বিন আবু হাবিব বলেন: শোনা হলো নিরাপদ ও তা একজনের জ্ঞান বাড়ায়যে শুনে সে বক্তার অংশীদারকথা হলো দ্বিধা ও প্রতারণা, বাহুল্য ও অভাববোধের সমন্বয়

যে কথা বলে সে ফিতনার অপেক্ষায় থাকে; যে শুনে সে ক্ষমার অপেক্ষায় আছে

আবু আদ যিয়াল বলেন: চুপ করে থাকতে শিখো যেভাবে তুমি কথা বলতে শিখেছো, কেননা যদি কথা তোমাকে পরিচালিত করে, তবে নীরবতা তোমাকে বাঁচাবেচুপ থাকলে তুমি দুইটি বৈশিষ্ট্য অর্জন করবে: তোমার থেকে যারা বেশী জ্ঞানী তাদের থেকে তুমি জ্ঞান নিতে পারবে; আর তোমার থেকে যে অজ্ঞ, তার অজ্ঞতা তুমি নেবে নাভাল কথা বলা সওয়াবের কাজ ও নীরবতা থেকে উত্তমকেননা, নীরবতা সবচেয়ে ভাল জিনিষ যা দিতে পারে তা হলো নিরাপত্তা আর ভাল কথা বললে তুমি অতিরিক্ত কিছু পাবেবলা হয় - ভাল কথা যে বলে সে জয়ী হলো; যে চুপ থাকে সে নিরাপদ থাকলো

জ্ঞান নিয়ে কথা বলা সবচেয়ে ভাল কাজগুলির অন্তর্ভূক্তএটি যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতের একই স্তরের - যদি তা অজ্ঞতা দূর, আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও যা বলা হয়েছে তার যথার্থ মানে আবিষ্কারের জন্য করা হয়

সালমান رضي الله عنهم এর কাছে এক লোক এসে বললো: আমাকে উপদেশ দিনতিনি বললেন, কথা বলবে নালোকটি বললো: যে মানুষের মধ্যে থাকে, তার জন্য কথা না বলা অসম্ভব
সালমান رضي الله عنهم জবাব দিলেন, তাহলে তুমি যখন কথা বলবে,তখন যা ঠিক তাই বলবেতা নইলে চুপ থাকবে
লোকটি বললো, আরো কিছু বলুনসালমান رضي الله عنهم বললেন, রাগ করবে না
লোকটি জানালো, আপনি আমাকে বলছেন রাগ না করতে কিন্তু আমি মাঝেমাঝে খুব রেগে যাই আর কিছুতেই নিজেকে সামলাতে পারি না
সালমান رضي الله عنهم বললেন, তাহলে যখন তুমি রাগ করো, কমপক্ষে তোমার জিহবা ও হাতকে সংযত রেখো
লোকটি বললো, আমাকে আরো বলুনসালমান رضي الله عنهم বললেন, মানুষের সাথে মিশবে নালোকটি বললো, মানুষের মধ্যে যে বাস করে, সে তাদের সাথে মিশতে বাধ্য
সালমান رضي الله عنهم জবাব দিলেন, তাহলে তুমি ওদের সাথে মেশার সময় সত্য বলবে ও কথা দিলে কথা রাখবে

আবু হারান আত তারমী বলেন, এটা বলা হয় যে মানুষ কোথায় তার পা রাখছে, সেটা থেকেও সে বেশী সতর্ক হবে সে কী বলছে তা নিয়েএটা এজন্য যে, জিহবা ও অতিরিক্ত কথা বিশ্বাসীদের জন্য বিপদজনক

জিহবার ফাঁদ অনেক ও এসব হচ্ছে মৃত্যুফাঁদএর যে কোন একটি সারাজীবন ধরে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট বিপদজনক

তবে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে পরীক্ষা করেন অশুভ থেকে কল্যাণকে আলাদা করার জন্য

জিহবার পাপ :

ইবনে   কুদামাহ  رضي الله عنهم      বলেন ,   জিহবার পাপ অনেক ।  এই  পাপ  মানুষের  মন  থেকে  তার  স্বভাবে  বিকশিত  হয়  ।  এই বিপদ  থেকে  বাঁচার  একমাত্র    উপায়  হলো চুপ  থাকা

আবু   আদ  দারদা  رضي الله عنهم    বলেন ,    মুখের চেয়ে  তোমার   কান  বেশী ব্যবহার  করো  ।  তোমাকে  কান  দেয়া হয়েছে  দুইটি  ও মুখ দেয়া হয়েছে  একটি  যেন  তুমি  কথা যা বলো  , তার  থেকে বেশী  শুনো

মাখলাদ বিন আল  হুসাইন  বলেন  ,  ৫০  বছরে  আমি  এমন  একটা  কথাও বলি  নি যাতে অনুতাপ  করতে হয় 

 

জিহবার পাপগুলি  হলো  :

এমন  কিছু  নিয়ে  কথা বলা যার  সাথে ব্যক্তির কোন সম্পর্ক নেই  :

যে  সময়কে  মুল্য  দেয় , সে  এমন কিছুতে   তা  নষ্ট  করবে  না ,  যা তার কোন উপকারে  আসবে  না ।  এই  উপলব্ধি   একজনকে  তার  জিহবাকে   সংযত  করতে বাধ্য  করে 

যে  এসব  অনর্থক  কাজে সময়  অপচয়  করে  ও  আল্লাহর  স্মরণ  থেকে  নিজেকে  দূরে  রাখে ,  তার তুলনা  হলো - দামী  রত্ন   কেনার  সামর্থ্য  থাকার পরেও   কাদামাটি  কেনা  - এটা  জীবনের  একটা বড় ক্ষতি । 

লুকমান  رضي الله عنهم     কে  প্রশ্ন করা হয়েছিল  , আপনি  কিভাবে এত জ্ঞানী হলেন ?  তিনি  বলেছিলেন ,   আমার যা দরকার  নেই  , তা  আমি চাই  না   ;   যার  সাথে আমার  কোন সম্পর্ক  নেই   সে বিষয়ে  আমি কথা বলি  না

বলা হয়  যে  লুকমান  رضي الله عنهم      একবার   দাউদ  আলাইহিস সালামের  কাছে গিয়েছিলেন ।   তিনি  তখন  বর্মগুলি  গুছিয়ে রাখছিলেন  ।  লুকমান  رضي الله عنهم     অবাক  হয়ে  তা  তাকিয়ে  দেখলেন  ।   তার জানতে  ইচ্ছা হচ্ছিলো   এ নিয়ে  কিন্ত্ত  তার   প্রজ্ঞা  তাকে  বাধা  দিল  ।   দাউদ  আলাইহিস  সালাম  বর্ম পরে  বললেন ,  যুদ্ধের   জন্য  এটা  কেমন চমৎকার   ?

 

লুকমান  رضي الله عنهم      বললেন  ,  নীরবতা  আসে জ্ঞান  থেকে  আর  খুব  কম  মানুষই  এর  চর্চা করে 

 

মিথ্যা  বলা :

 

 মিথ্যা অনেক  রকমের  ।  রাসূল  صلى الله عليه وسلم   বলেছেন  ,  অবশ্যই  দাস  এমন  একটা মাত্র  কথা বলতে  পারে  যা  তাকে  আগুনের এত নীচে   ফেলবে   , যেটার  গভীরতা   পূর্ব  ও  পশ্চিমের  মধ্যে  দূরত্ব  যত , ততটুকু   (  বর্ণনায়  ইমাম  বুখারী ,ইমাম মুসলিম ;  সূত্র আবু  হুরায়রা   ) ।  এর সাথে  তুলনীয়  আরেকটি বিষয় হলো :  কেউ   কারো  সাথে  তর্ক  করতেই  থাকে এজন্য  যে  , অন্যের  দোষ  সবার সামনে  তুলে  ধরবে ও সবার  মনোযোগ  নিজের  দিকে  আকর্ষণ  করবে

 একজন   তার    জিহবা  দিয়ে যা খারাপ   তা করতে মানা  করবে  ও  স্পষ্ট  বোঝাবে  কোনটা  ভাল ।  তার  থেকে  এটা যদি গ্রহণ  করা না হয় , তবে  সে  তর্ক  এড়িয়ে যাবে ।   সে এমন করবে যদি  তা ধর্ম  নিয়ে কিছু  হয়  ।  যদি দুনিয়াদারীর  কোন  বিষয়  হয়  ,  তবে তর্কের কোন  কারণ  থাকতে পারে না ।   এই  বিষয়ে  সফল  হতে   হলে  অহংকারবোধ  ,  যে  জন্য  অন্যের  চোখে আমরা ভাল  হতে  চাই  , তা দূর করতে  হবে

 

 

তর্ক  করার  থেকে  খারাপ  হলো   লড়াই  আর  ঝগড়া  করা  ।  যে  বিষয়ে  জ্ঞান নেই  , তা  নিয়ে  ঝগড়ার  কথা  এখানে  বোঝানো  হচ্ছে  ।  যার যুক্তি   দেখানোর  যোগ্যতা  আছে ,  সেও  এটা  এড়িয়ে চলবে  ; কেননা  এটা  মনে  ক্ষোভ  ও  হিংসার  জন্ম   দেয়  , রাগ  বাড়ায় ।  ফলে  মানুষ  একে  অন্যকে  অসম্মান  করে

 

অতিরিক্ত  অলংকারবহুল  বাচনভঙ্গী :

এটি  তখন  প্রযোজ্য  যখন  অতিরিক্ত  অলংকারবহুল  কথা  আন্তরিকতা  ছাড়া  বলা হয়  ।  মানুষকে  ভাল  কাজে  উদ্বুদ্ধ  করার  জন্য  কোন খতীব  বা  অন্য  কারো সুন্দর  ভঙ্গীর  কথা  এর অন্তর্গত  না ।  মূল কথা হলো ,  বক্তব্য  যেন  সহজ  হয়  ও মনকে  উদ্বুদ্ধ করে

 

 

অশোভন  ও  মানানসই  নয় , এমন কথা  বলা :

 

কেউ যখন  মানানসই   বা যথাযথ  না  এমন কথা স্পষ্ট  ও সরাসরি বলে যা অনেক সময়   গানের মধ্যে করা হয়

* রসিকতা -  যদি সত্য  হয়  তবে  রসিকতা  নিষিদ্ধ না ; কেননা  রাসূল  صلى الله عليه وسلم   কখনো  কখনো  কৌতুক  করতেন    ও  সত্য  ছাড়া  কিছু বলতেন  না  ঠাট্টার  ছলে বলা   সেই কথা  সবসময়ই  নীচের শর্ত পূরণ করতো :  সত্য বলা ; নারী , শিশু  ও দূর্বল পুরুষদের  সাথে   বলেছিলেন ,   যাদের মানসিক  অবস্থার  প্রেক্ষিতে  একটু হালকা কথা বলা দরকার ছিল - তিনি সবসময়  নয়  বরং  খুব কমই  এটা করেছেন

 

*  কাউকে  উপহাস  করা  ও   তার মর্যাদা  নষ্ট করা :

 

কারো দোষ  প্রকাশ  করে তাকে  উপহাস  করলে  তার সম্মান  নষ্ট করা হয় ।  এটা সরাসরি   কোন  কথা বা  কাজ  দিয়ে  করা   হয়  অথবা  পরোক্ষভাবে   তার দোষ  তুলে ধরা  হয় ।  এ দুটোই  শরীয়াহতে  নিষিদ্ধ

 

*   গোপন  কিছু  প্রকাশ  করা  ,  কথা  না  রাখা   ও  মিথ্যা  শপথ :

 

এসব কিছু হারাম - ব্যতিক্রম  হলো  স্ত্রীর  মন  রক্ষায়  ও  যুদ্ধের  সময় মিথ্যা  বলা  যায়

*  পরনিন্দা :  কারো সম্পর্কে  তার  অনুপস্থিতিতে  এমন  কিছু বলা  যা সে শুনলে  পছন্দ  করতো  না  ।  যেমন  , তার কোন শারীরিক  খুঁতের  বর্ণনা  দেয়া  যে  সে  বেশী  লম্বা ,  বেঁটে  , মোটা , টাক  মাথা  ,  তার চোখ   ট্যারা  বা  সে অন্ধ  ইত্যাদি  ।  তার পরিবারকে  হেয়  করে  কিছু   বললে  যেমন  তারা  তেমন  অভিজাত  না   ইত্যাদি ।  তার স্বভাব  নিয়ে  কিছু  বললে   যেমন  সে  বদমেজাজী ।    তার পোশাক  নিয়ে   কিছু বলা  যেমন সে  ময়লা  বা কম দামী  কাপড়  পরে  বা  মাপমতো কাপড়  পরে না  ইত্যাদি

 

 

এসবের পক্ষে  প্রমাণ  হলো  :  রাসূল  صلى الله عليه وسلم  এর  কাছে   গীবত   নিয়ে জানতে  চাওয়া  হয়েছিল ।  তিনি বলেন  :  এটা  হলো  তুমি তোমার  ভাইকে  নিয়ে  এমন কথা বললে  যা  সে পছন্দ  করে  না  ।  তাকে বলা হলো ,  যদি  এমন  হয় যা বলেছি   সে  তাই ?   তখন  রাসূল  صلى الله عليه وسلم   বললেন  ,  তুমি যা বললে   সে যদি  তাই হয় , তবে  তা  গীবত ।  আর  যদি  সে  তা না , তবে  তুমি  অপবাদকারী  ( বর্ণনায়  মুসলিম , দাউদ , তিরমিযী )

কারো  মর্যাদা   নানাভাবে  নষ্ট করা হতে  পারে  -  কথা  দিয়ে  , চোখের  ইশারায়  , আঙুল  তুলে   দেখানো   বা  লেখার  মধ্য  দিয়ে  - কলম  হলো  তোমার  দুইটি  জিহবার  একটি

সবচেয়ে  জঘন্য  গীবত  হলো  মিথ্যা  ধার্মিকদের  গীবত  যখন  কারো  কথা বলা হয়  , তারা বলে :  আল্লাহকে  ধন্যবাদ  যে  আমরা  তার মতো নির্লজ্জ  না  বা  আল্লাহ  আমাদের  মাফ করুন ।  এটা এজন্য  যে  তারা   অন্য মানুষের  সম্মান  নষ্ট করার পাশাপাশি  নিজেদের   নিয়ে অহংকার  করছে  ।  এদের   মধ্যে  কেউ  এমনো   দুআ  করে  :  আহা ,  এই  বেচারা  অনেক  পরীক্ষার  মধ্যে  দিয়ে যাচ্ছে  ।  আল্লাহ তাকে  ও  আমাদেরকে   মাফ  করুন  ।  এভাবে  সে  মনের  আসল ভাব  লুকিয়ে  রাখে

জেনে  রাখো , যে গীবত  শুনে সেও  গীবতকারীর  সাথী  হলো  ।  যদি  সে  গীবতের বিরুদ্ধে  কিছু  না  বলে   তবে  সে  এই  পাপ  থেকে  নিজেকে  সরিয়ে  রাখতে  পারলো না ।  যদি  সে  গীবতকারীর  সামনে প্রতিবাদ  করতে  ভয়  পায় , তবে   কমপক্ষে  সে মন  থেকে  গীবতকে  ঘৃণা  করবে  ।  সম্ভব  হলে  সে  ঐ  জায়গা  থেকে  চলে  যাবে   বা   আলোচনার  বিষয়  বদলে ফেলবে

  • কারো  গোপন  কথার প্রচার :

 

রাসূল  صلى الله عليه وسلم   বলেছেন  ,  মানুষের গোপন  কথা  যে ফাঁস  করে   , সে  বেহেশতে যাবে না ( বর্ণনায় হুদাফা )

এতে  একের  বেশী মানুষ  জড়িত  হয়ে  পড়ে ।  কেননা  তুমি কাউকে বললে ,অমুক  তোমাকে নিয়ে   এই কথা বলেছে  -  তখন এটা  শুধু  এর  মধ্যে  সীমিত থাকে  না  ।   বরং  এটা  এমন  বিষয়  ফাঁস  করে , যা  হওয়া  উচিত  ছিল  না  ।  এটা  হতে  পারে  কথা  বা  কোন  কাজ  এমন  কী  , তুমি যদি  দেখো   কেউ   তার  নিজের  টাকা  গর্তে  ঢুকিয়ে   রাখছে  আর  তুমি  সেটা অন্যকে  বলো  ,  সেটা হবে কথা লাগানো । 

 ধরণের কথা যে শুনবে -  অমুক তোমার সম্পর্কে এই  কথা  বলেছে বা  তোমার বিরুদ্ধে এই করেছে  ,  তার  উচিত   হবে নীচের  ছয়টি  কাজ করা

 

১.    যা শুনবে   তা   বিশ্বাস  না করা কেননা  , যে  কথা লাগায়  সে পাপী  ও  তার কথা  অস্বীকার  করতে  হবে

 

২.  সে তাকে  উপদেশ  দিবে   ও  এই  কাজ করতে মানা করবে

৩.   সে  আল্লাহর  জন্য  এই  পাপীকে  ঘৃণা  করবে  ; কেননা   আল্লাহ  একে  ঘৃণা  করেন

৪.  একজন   তার  অনুপস্থিত  ভাই সম্পর্কে  খারাপ  কোন  ধারণা  করবে  না

৫.    সে  গোয়েন্দগিরি  করবে  না

৬.  অন্যের   দোষ   খুঁজে  বেড়াবে  না  ; কেননা  আল্লাহ  বলেন :  তোমরা  একে  অপরের  গোপনীয়  তথ্য  খুঁজবে  না ( সুরা হুজুরাত , ৪৯ :  ১২ )

 

সে   অন্যকে যা  করতে মানা করেছে , সেটা  সে  নিজেও  করবে  না  ; এর মানে   সে যা শুনেছে  তা  অন্য কাউকে  বলে  বেড়াবে  না

 

  • দুইটি  জিহবা  থাকা :

এটি  ঘটে  তখনই  যখন ,    দুজন শত্রুর মধ্যে    একের কথা কেউ অন্যজনকে  লাগায় ।   তাদের  কারো  কাছে গিয়ে  সেটাই  বলে, যা  সে শুনতে   চায় অথবা  যাকে  সাহায্য  করবে  বলে  কথা  দেয়  বা সামনাসামনি  তার  প্রশংসা  করে , কিন্ত্ত   অন্য  পক্ষের   সামনে  তার  সম্মান  নষ্ট  করে কথা বলে

 

রাসূল  صلى الله عليه وسلم   বলেছেন , সবচেয়ে  খারাপ  লোক  হলো  দুই মুখের  লোকেরা  যারা কারো  কাছে  একরকম চেহারা  নিয়ে যায় ,আবার অন্যের  কাছে  অন্যভাবে  যায়  ( বর্ণনায়  আবু  হুরায়রা ;  বুখারী ও মুসলিম শরীফ , দাউদ  )

  • মানুষের  প্রশংসা    করা :

যে    প্রশংসা  করে  ও  যার  প্রশংসা  করা  হয় , তাদের  দুজনেরই   ক্ষতি হয় 

যে  প্রশংসা  করে  তার  পাপ  হলো , সে  যা বলে  তা  সত্য  নাও  হতে  পারে  ও  তা নিশ্চিত  করা যায়  না ।  যেমন  ,  সে   বললো   অমুক  দুনিয়াদারির   ভোগ বিলাস  থেকে  দূরে থাকে ।  প্রশংসা  করতে  গিয়ে  মাত্রা  ছাড়িয়ে  সে এমন কথা  বলতে পারে, যা  মিথ্যার পর্যায়ে  চলে যায় ।    সে  যার সম্পর্কে  বলছে   সে  হয়তো  তিরস্কারের যোগ্য

যার প্রশংসা  করা হয়  ,  সে অহংকারী  বা  উদ্ধত  হয়ে  উঠতে পারে  ।  এ দুটিই   খুব  ক্ষতিকর 

 

  • ধর্ম

এটা   হয়  কেউ    যদি  ধর্ম  বিশেষ  করে  মহান  আল্লাহ  সম্পর্কে  মারাত্মক  কোন ভুল  করে ফেলে 

 

তাই  ছাত্ররা  জিহবা  সংযত  করবে  ,  সময় বাঁচাবে  ,  সত্য  নিয়ে  ব্যস্ত   থাকবে , সামান্য  বিষয়ে  সময় নষ্ট  করবে  না  ,   গঠণমূলক  কিছু না করে জীবনটা অনর্থক পার করবে না

সেই   সঠিক পথে  পরিচালিত  হয় যাকে  আল্লাহ   পথ  দেখান 

Share this post


Link to post
Share on other sites

:sl:

 

 

 

 

 

 

 

৬.   সঠিক  বন্ধু  বেছে নেয়া  ও সামাজিকতা  কমানো :

 

মানুষের  সাথে  মেলামেশা  ও  নির্জনতায়  থাকা  নিয়ে  সবসময়  মতভেদ  দেখা দিয়েছে । কারো  মত  হচ্ছে  মানুষের সাথে  সবসময়  মেলামেশা করা  উচিত  ; কারো মত হলো  মানুষের ভীড়  থেকে    সবসময়  নিজেকে  সরিয়ে রাখতে  হবে -  যে যার মত  নিয়ে  খুশী ।

শেখ  আল  ইসলাম  ইবনে  তাইমিয়াহ رضي الله عنهم    এই  বিতর্ক  নিয়ে বলেন  :   মানুষের  সাথে  মেলামেশা  কখনো বাধ্যতামূলক , কখনো  তা  করতে সুপারিশ  করা

হয়েছে ।  একজন কখনো কখনো অন্য মানুষের  সাথে  মিশতে  বাধ্য  , অন্য  সময়ে   সে তাদের  থেকে  দূরে  থাকতেও  পারবে ।

 

 

ভাল  কাজে  ও  ধর্মীয়  ব্যপারে  মানুষকে  ভাল  কাজে  উৎসাহ  দেয়ার জন্য  তাদের সাথে  মিশতে হয় ।  আবার  কোন  খারাপ  কাজে  সাহায্য  করার জন্য  তাদের সাথে   মেলামেশা  করা যাবে  না ।

 

পাঁচ  ওয়াক্ত  সালাত , ঈদ  ও  জুমআহ   সালাত ,  চন্দ্রগ্রহণ  , সূর্যগ্রহণের  সময়কার  সালাত  , ইসতিকার  সালাত  (বৃষ্টির  জন্য  দুআ   )  ইত্যাদি  ইবাদত  যা সবাই  মিলে   করে   , সেগুলিতে  অংশ  নিতে আল্লাহ  ও  তাঁর  রাসূল  صلى الله عليه وسلم আদেশ   দিয়েছেন ।   একইভাবে  হজ্জের  সময় মানুষের  সাথে  মেলামেশা , অবিশ্বাসীদের  সাথে  যেমন  খাওয়ারিয  ও বিদ্রোহীদের  সাথে যুদ্ধের  সময়  অংশগ্রহণ  যদিও  নেতা  ও  তার  অনুসারীরা  দূর্নীতিগ্রস্থ  হয় ।   এ  ধরণের  আরো সমাবেশে  অংশ  নেয়া  যাতে    একজন  বিশ্বাসী   তার  ঈমান  দৃঢ়  করতে  পারে -  হয়  সে  নিজে  থেকে    কল্যাণ  লাভ  করবে  বা  সে   অন্যের  উপকার  করবে  ।

একজন  মানুষের  কাছে  নিজের  জন্য  এই  সময়  থাকবে, যাতে সে  দুআ ,  যিকির , নিজের আমল নিয়ে চিন্তা-ভাবনা  করা  ও মনকে  শুদ্ধ  করতে পারে ।

এসব ব্যপারে  অন্য  কেউ  তার সাথে  অংশ  নেবে  না  ।  এগুলি    ব্যক্তিগত  উদ্যোগে  বাসায় বা  অন্য  কোথাও  করতে হবে   যেমনটি  তাউস  বলেন  : বাসায়  আশ্রয়  নেয়া কত  না চমৎকার ।  এখানে  থাকলে একজন  তার দৃষ্টি   ও জিহবাকে  সংযত  রাখতে পারে ।

মানুষের  সাথে  অনিয়ন্ত্রিতভাবে  মেলামেশা  বা  তাদের  থেকে  পুরোপুরি  বিচ্ছিন্ন  হয়ে  যাওয়া  -  এর  কোনটাই ঠিক  না ।  কতটুক  মেলামেশা  বা  বিচ্ছিন্নতা  একজনের  জন্য  দরকার  ও   তার  জন্য   ভাল  ,  সেটা ঠিক করতে আরো  অনেককিছু  জানতে বুঝতে  হবে ।

 

উত্তম  হলো  অনেকরকম  ইবাদতের  মধ্য  থেকে  একজন   গূরুত্ব  অনুসারে  তা  বেছে  নেবে।  যেমন ,  কুরআন  তেলাওয়াত  থেকে  সালাত উত্তম  ,  যিকির  থেকে  কুরআন  তেলাওয়াত   উত্তম ,  দুআ  থেকে  যিকির  ভাল ।  কখনো সময় বুঝে ইবাদত  করা বেছে নিতে  হয়  যেমন ফজর  ও আসরের  সালাতের  পরে  কোন নফল সালাত আদায় না করে কুরআন  তেলাওয়াত , যিকির  ও  দুআ    পছন্দনীয়   ইবাদত ।

 

অনেক  সময়  শারীরিক  অবস্থান বিবেচনা করে   ইবাদত বেছে নিতে  হয়  ।  রুকু  ও  সিজদাতে  কুরআন  তেলাওয়াত  না করে  যিকির  ও দুআ  করা বৈধ ।  তাওয়াফ  করার সময়  কুরআন তেলাওয়াত  করা  ঠিক  কি  না , সেটা  নিয়ে মতভেদ  আছে ।  স্থান বুঝে  ইবাদত  করতে  হয়  যেমন  আরাফাত ,  মুজদালিফা  ,  জামারাত  ,  সাফা  ও  মারওয়ায়  সালাত   থেকে  যিকির  ও  দুআ  করা  পছন্দীয়  কাজ  ।

মুসাফিরের  জন্য  কাবা ঘরে  এসে  সালাত  থেকে  তাওয়াফ  করা  উত্তম ; স্থানীয়  বাসিন্দা যারা তাদের  জন্য  সালাতই  উত্তম  ।

ব্যক্তি  ভেদে   ইবাদত আলাদা   হয়  ।  যেমন পুরুষদের জন্য  হজ্জ  থেকে  জিহাদ  শ্রেষ্ঠ  ।  নারীদের  জন্য  হজ্জই  হলো  জিহাদ  ।   বিবাহিতা  নারীর  জন্য   পিতার  থেকে  স্বামীর  আনুগত্য  করা উত্তম  , অন্যদিকে  অবিবাহিতা   মেয়েদের  জন্য  পিতার  আদেশ  মানা  কর্তব্য  ।

সামর্থ্যের  উপর  ইবাদত  কী  করা  হবে , তা  নির্ভর  করে  ।  যা  করতে  একজন  সমর্থ , তাই  তার  জন্য  উত্তম  , যেটা  করা  তার সাধ্যের  বাইরে  তা করার  থেকে -  যদিও   হয়তো  ঐ  ইবাদতের  গূরুত্ব  বেশী  ।

 কিছু   মানুষ  অতিরিক্ত  ইবাদত  করতে চায়  ও  নিজের  ইচ্ছা  পূরণ  করতে  গিয়ে  সীমা  ছাড়িয়ে ফেলে ।  কিছু   মানুষ  বিশেষ  কোন   ইবাদতকে  নিজেদের  জন্য  উত্তম  মনে  করে  এবং  তাদের  চারপাশে  যারা  থাকে  তাদেরকেও  তারা  সেটা  করতে  বলে ।

 

আল্লাহ তাঁর রাসূল  صلى الله عليه وسلم  কে কিতাব ও জ্ঞান দিয়ে পাঠিয়েছেন  ,

পাঠিয়েছেন  তাঁর  দাসদের  জন্য  রহমত  ও  পথপ্রদর্শক  হিসাবে  ।  যা  ভাল  তাই  করতে মুসলমানদের  আদেশ  দেয়া  হয়েছে  ;  তাই  একজন  মুসলমান  অবশ্যই    অন্যদের  ভাল  চাইবে  ।

ইসলামিক  জ্ঞানে  যারা   সমৃদ্ধ   (  আল্লাহ  তাদের  উপর  সন্ত্তষ্ট  হোন  )  -   মানুষের  সাথে   তারা   মিশবেন  ও  তাদেরকে  শেখাবেন ।    একই  সাথে   তারা  হবেন  সবচেয়ে    সাবধানী  মানুষ  , যেন  সময়ের  অপচয়  না হয় ।   যার  মন  মরে  গিয়েছে ,  মেলামেশা  তার সাথে করা  যাবে  না     যেন সে  এক  ডাকাত ; বরং  এমন  কারো  সাথে  মিশতে  হবে  যে  ঈমান  বাড়াতে  ও  নেক  আমলে  সাহায্য   করবে  ।  ইবনে  আল  কাইয়াম  বলেন  :  যার মন  মরে  গিয়েছে ,  যত  দূর সম্ভব  তার অনুপস্থিত  থাকার   সুবিধা  গ্রহণ  করো  ।   যদি তোমাকে  তাকে সাথে  নিয়ে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয় , তবে তুমি তাকে বাহ্যিক মনোযোগ দাও ; তোমার মনকে তার থেকে  দূরে রাখো ; তোমার ভিতরের  সত্ত্বাকে তার থেকে আলাদা রাখো ; তোমার মনোযোগ যেন সে নষ্ট করতে না পারে এমন বিষয়  থেকে , যা তোমার মনোযোগ পাওয়ার  দাবী রাখে ।

যে তোমার  কোন কল্যাণ  করতে পারবে  না , তার সাথে বেশী ব্যস্ত  থাকা ; সময় , শক্তি  ও  মনোযোগ তার পেছনে যেটা নষ্ট  হয় -  তা  তোমার বড় ক্ষতি ।  যদি তোমাকে  এসব পরীক্ষার মধ্য  দিয়ে যেতে হয়  - আর  তোমাকে  অবশ্যই  এসব পরীক্ষার  মধ্য  দিয়ে  যেতে  হবে  -  তার  সাথে  এমন ব্যবহার করো  যা আল্লাহ  চান -  যতদূর  সম্ভব  তার সাথে  ধৈর্যশীল  হও ।  তোমাদের  একসাথে  থাকা  যেন  আল্লাহর  কাছে যাওয়ার  উপায়  হয় ,  কোন  কল্যাণ  যেন  এ  থেকে  আসে  - ক্ষতি না  ।  এমনভাবে  তার সাথে  থাকা  যেন  , রাস্তায়  চলার  সময়  তোমাকে  কেউ   থামতে বলেছে  ও  তাকে তোমার  সাথে  নিতে  বলেছে  ।  এটা  নিশ্চিত  করো  যে  , তুমি  তাকে  এগিয়ে  দেবে  এবং  সে তোমাকে  গন্তব্যে  নিয়ে যাবে  না ।  যদি সে  এতে  রাজী  না হয়  ও  তার সাথে একসাথে  থাকলে  তোমার  কোন  লাভ   না  হয়  , তবে   তার   জন্য  থামবে  না  ;  তাকে  বিদায়  জানাও   ;  এমনকী  তার দিকে  পিছন ফিরে   তাকাবেও  না  যেন  সে  একজন  ডাকাত -  আসলে  সে  যেই   হোক  না কেন ।

 

 

 

 

তাই  তোমার  মনকে  বাঁচাও , তোমার  দিন রাত  কিভাবে কাটাচ্ছো  সে  নিয়ে  সাবধান   হও ।   তাই  ছাত্ররা  অবশ্যই  সামাজিক  মেলামেশা  থেকে  দূরে  থাকবে   ।  কেননা  ,  এটি   সবচেয়ে  গূরুত্বপূর্ণ  কাজগুলির  একটি   যা  সে করতে পারে  -  বিশেষ   করে  বিপরীত  লিঙ্গের    সাথে  মেলামেশা  ও  যারা  হালকা  বিনোদনে  সময়  বেশী  নষ্ট করে , তাদের বেলায়  এটা  বেশী প্রযোজ্য  ।   এরা  তোমার  সময়কে  চুরি করবে  অর্থাৎ  এরা  তোমাকে প্রভাবিত করায়   তুমি সময়ের  অপচয়  করবে ।

সামাজিক  মেলামেশার  ক্ষতির  অন্তর্ভূক্ত  হলো  কোন কল্যাণ  ছাড়া  জীবন  পার  করা  ; একই  সাথে  তোমার  সম্পদ  ও  ধর্মীয়  অঙ্গীকার   ক্ষতিগ্রস্থ  হবে , যদি  ভুল  লোকের  সাথে  উঠা বসা  করো  ।

 

ছাত্ররা  তাই মানুষের  সাথে   বেশী  মেলামেশা  করবে  না  ।  ব্যতিক্রম  হলো  যারা  তার থেকে  উপকার  পেতে পারে  বা  সে তাদের  থেকে  কোন কল্যাণ  লাভ  করতে পারে  ।  যদি  কেউ  তার বন্ধু  হতে  চায়  যে  তার  সময়  নষ্ট  করবে  , কোন  উপকারে  আসবে  না  বা  তার থেকে উপকার  লাভ করবে  না  , লক্ষ্যে যেতে  কোন  সাহায্য করবে  না  ,  তাহলে  ছাত্রটির  উচিত  হবে সম্পর্ক  গভীর হওয়ার  আগে  ভদ্রভাবে  এই বন্ধুত্ব  শেষ  করা   কেননা  বন্ধুত্ব   প্রতিষ্ঠিত  হয়ে  গেলে  সম্পর্ক  শেষ  করা কঠিন  হবে ।

 

 

 

 

জ্ঞানীরা  একটি  কথা  প্রায়ই  বলে  থাকেন :  কিছু  নিয়ে  তা থেকে  মুক্তি  পাওয়ার  থেকে ,   তা নিতে  রাজী  না  হওয়া  সহজ কাজ    যদি  তার  কোন  বন্ধুর  দরকার  থাকে , তবে সে বন্ধু  হবে সঠিক পথের  মানুষ  , ধার্মিক , সাবধানী ,  বুদ্ধিমান  ,  কল্যাণকর  ,  বড়  কোন  দোষ  যার মধ্যে  নেই  ,  মানিয়ে  নিতে  পারে  , সহজে  ঝগড়া  করে  না , কিছু   ভুলে  গেলে   মনে  করিয়ে  দেয় ,  দরকারে  সাহায্য  করে ও  দু:খে   সান্ত্বনা  দেয়  ।

ইবনে  কুদামাহ  رضي الله عنهم    বলেন ,  জেনে রাখো   সবাই  তোমার  বন্ধু   হওয়ার  যোগ্য  না ।  তোমার  সম্ভাব্য  বন্ধুকে  যাচাই  করে  দেখো , তার  সেই যোগ্যতা  আছে  কি না ।

তোমার  বন্ধু  যে   হবে  তার  মধ্যে  অবশ্যই  নীচের  পাঁচটি   গুণ  থাকবে  : -

১.  বুদ্ধিমান  হবে ।  বোকার  সাথে বন্ধুত্বে  কোন কল্যাণ  নেই  , কেননা    সে  উপকার  করতে  চাইলেও  তোমার  কেবল  ক্ষতিই  করবে    বুদ্ধিমান  বলতে  বোঝাচ্ছি  সে কোন কিছুর  প্রকৃত  অবস্থা  বুঝতে  পারে  বা  কিছু  বোঝালে  বোঝে ।

 

২.    তার  আদব কায়দা ভাল  হবে   ও  এটা  অপরিহার্য  গুণ ।

যে  শুধুই  বুদ্ধিমান  , সে  রাগ  বা  ইচ্ছার  বশ  হয়  ।  ফলে  তার বন্ধুত্ব  কল্যাণকর  নয় ।

 

 

৩.  সে  মুনাফিক হবে  না  ।  এমন  মানুষ  আল্লাহকে  ভয়  পায়  না  ও  যে  আল্লাহকে  ভয়  করে  না  , তাকে  বিশ্বাস  করা  যায়  না ।

 

৪.  সে  নতুন  কিছু  চালু করবে  না  ।  কেননা   ,  তার  চালু  করা রীতি  তোমার  উপর  খারাপ প্রভাব  ফেলার ভয় থাকবে  ।

 

৫.দুনিয়াদারির  দিকে  তার  মোহ  থাকবে  না  ।

 

উমর  বিন  আল  খাত্তাব  رضي الله عنهم   বলেন ,  তোমার সত্য  পথের ভাইদের সাথে লেগে থাকো তুমি তাদের সাথে শান্তিতে থাকতে পারবে , কেননা যখন কোন কষ্ট নেই , তখন তাদের সাথে থাকাটা আনন্দময় আর কঠিন সময়ে তুমি তাদের উপর  ভরসা করতে পারবে তোমার ভাই সম্পর্কে সবচেয়ে ভাল ধারণা রাখবে যতক্ষণ না সে এমন কিছু নিয়ে আসে , যা তোমাকে সাবধান করবে তার বিষয়ে ।

 

 

 

 

তোমার শত্রুকে  এড়িয়ে চলো । যাকে বিশ্বাস করা যায়  না , তার সাথে বন্ধুত্ব করা থেকে  সাবধান  থাকবে ।  যে আল্লাহকে  ভয়  পায়  না , তাকে বিশ্বাস করা যায়  না ।

 যে নীতিহীন , তার সাথে বন্ধুত্ব করবে না কেননা , সে তোমাকে নীতিহীনতা শেখাবে ; আর এমন লোকের কাছে তোমার গোপন কথা বলবে না ।

গোপন কথা নিয়ে আলোচনা  শুধু তার  সাথেই  করতে পারো , যে আল্লাহকে  ভয় পায় । ইয়াহিয়া বিন মুরাদ বলেন :  বন্ধু  হচ্ছে  সে  যাকে   তোমার জন্য  দুআ  করার  কথা  মনে করিয়ে  দিতে হবে  না ।  তাকে  তোষামোদ  করা বা  মন জয়  করার  চেষ্টা  করতে  হবে  না  এবং  তার কাছে  কোন কিছু  নিয়ে  মাফ চাওয়ার দরকার নেই ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ভাইয়ের  দাবী  :

 

তোমাদের   সবারই  ভাইয়ের  উপর নির্দিষ্ট  কিছু  দাবী  আছে ।  তার কোন দরকার  থাকলে  তা  সাধ্যমত    পূরণ করবে ।

 

কমপক্ষে  যা  অবশ্যই  করতে  হবে  তা হলো -  যখন সে  কিছু  চাইবে , তখন  সাধ্যের  মধ্যে  হলে  হাসিমুখে  তার  প্রয়োজন  মেটাবে ।  ভাই  চাওয়ার  আগেই  যদি  খেয়াল  করে  তার  প্রয়োজন  মেটাও  , তবে  তা আরো  ভাল ।  তোমার  নিজের  যা  দরকার  , তার  উপর  যদি ভাইয়ের  দরকারকে  প্রাধান্য  দাও , তাহলে  তা  সবচেয়ে  ভাল ।

 

তার  দোষ সম্পর্কে  তার  সামনে  বা  আড়ালে  কিছু  বলবে না  -  এ নিয়ে  নীরব  থাকো । 

তার  সাথে  মতভেদ  করবে  না , ঝগড়া   করবে  না  ।  তার  গোপন  কথা  যা   সে  প্রকাশ  হোক চায়  না  , তা  জানতে  চাইবে  না যদি  তুমি  দেখো  সে কোথাও  যাচ্ছে , জানতে  চাইবে না  সে কোথায়  যাচ্ছে ।  কেননা   সে হয়তো  তা অন্যকে  জানাতে  চায়  না    তার গোপন  কথা  কাউকে  বলবে  না  ; যদিও   পরে  তার  সাথে  কখনো  ঝগড়া   হয়  ।   তার  বন্ধু  ও  পরিবারের  লোকদের  অপমান  করবে  না ।  যদি  অন্য  কেউ  তার সম্পর্কে অপমানজনক  কথা বলে  , সেটা  তার  কাছে বলবে না ।

সে   বিরক্ত  হবে এমন  কিছু  তাকে বলবে  না  ,  ব্যতিক্রম হলো  যদি  এমন কিছু  হয়  যা  অবশ্যই  বলা  উচিত  যেমন  ভাল  কাজের   নির্দেশ দেয়া , খারাপ  কাজ করতে মানা করা ।  এতে  তার  উপকারই করা  হলো জেনে রাখো  এমন  বন্ধু  কখনোই  পাবে  না , যার কোন  দোষ  নেই ।   তাই এমন বন্ধু  খুঁজবে  যার   দোষের থেকে  গুণ বেশী  ।  যদি  তুমি  নিজের  দোষ গুণ  বিচার  করার  চেয়ে  অন্যের সমালোচনা  বেশী  করো  ,  তাহলে আল্লাহর  এই  বাণী  তোমার জন্য প্রযোজ্য  হবে :   

 

যারা  লোকের  কাছ থেকে  ওজনকালে পুরো  মাপে  নেয়  , কিন্ত্ত যখন তাদের জন্য ওজন  করে  তখন মাপে  কম দেয়  (সুরা  মুতাফফিফিন ; ৮৩ :  ২-৩ ) ।

বিনা  দরকারে  তর্ক বিতর্ক  করা  দুই  ভাইয়ের  মধ্যে  ঘৃণা  ও  হিংসা  সৃষ্টির  অন্যতম  কারণ ।  তখন  দুই পক্ষই  নিজেকে  অন্যের  থেকে  সেরা  ও বেশী  বুদ্ধিমান  প্রমাণ করতে  চায়  ,  অন্যের  সম্মান  নষ্ট  করতে  চায় ।

যে  ঝগড়া  করা  বেছে   নেয়  , সে  তার  ভাইকে  বোকা  ও  অযোগ্য প্রমাণ  করতে চায়  -  আর এসবই হলো   অন্যের  সম্পর্কে  মিথ্যা বলা । এতে মন উত্তেজিত হয় ও একে অন্যকে ঘৃণা করে এসব হলো  ভ্রাতৃত্ববোধের বিপরীত।

ভ্রাতৃত্ববোধের দাবী হলো যা বলা উচিত  না , তা যেমন বলবে না তেমনি, যা বলা উচিত তা বলবে ।   এটাই  হলো  ভ্রাতৃত্ববোধের  অধিকার , কেননা যে  বোবার   বন্ধু হতে  চায়  , সে কবরস্থানে যাবে ।

 

 

ভ্রাতৃত্ববোধের   দৃষ্টিভঙ্গী  হলো  তুমি তোমার  ভাইয়ের  থেকে কল্যাণ  লাভ করবে ।  তাই ভ্রাতৃত্ববোধকে  শক্তিশালী  করবে তার খোঁজখবর  নিয়ে , তাকে বুঝতে  দিবে   যে তুমি  তাকে নিয়ে  ভাবো , তার সুখবরে  খুশী  হও তুমি  তার সম্পর্কে  ভাল  যা জানো  , তা  অন্যদের  কাছে  বলবে  ।  তার পরিবার  , সন্তান  , কাজ , স্বভাব  , বুদ্ধি  , চেহারা  , ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি  যা  নিয়ে  বললে  সে  খুশী  হয়  তা  বলবে  ,  তবে  বাড়াবাড়ি  পর্যায়ে  যাবে  না ও  মিথ্যা  বলবে  না ।

একইভাবে   কেউ  যদি  তার  সম্পর্কে  ভাল   কথা  বলে , সেটা  তাকে   জানাবে  ও   তাকে  বুঝতে   দিবে   তার প্রশংসা  শুনে   তুমি  খুশী   হয়েছো ।   তা  না হলে  এটা  হিংসা  করার  মতো  হবে তোমার জন্য  সে যা  বলবে  , তার  জন্য  তাকে ধন্যবাদ  দেবে   যদি কেউ   তার  সম্পর্কে  খারাপ  কথা  বলে  , তবে   তার  প্রতিবাদ   করে  ভাইয়ের   সম্মান রক্ষা  করবে ।  ভাইদের  একে  অন্যের  উপর   এই   অধিকার  আছে  যে  তারা  একে  অন্যকে  বাঁচাবে  ও  সাহায্য  করবে ।

তুমি  তাকে  শেখাবে  ও  উপদেশ  দেবে  ।  কেননা  ,  তার যেমন  অর্থের  দরকার  আছে  ,   তেমনি  জ্ঞানেরও   দরকার  আছে   ।  তাই  তুমি  যদি জ্ঞান  সম্পদ  পাওয়ার মতো  সৌভাগ্যবান  হয়ে  থাকো ,     তাহলে  তা  থেকে    তাকে  কিছু  দাও    ও  তাকে  পথ  দেখাও  ।

 

 

তাকে   তুমি   গোপনে উপদেশ   দিবে  ।  তুমি   তাকে  উপদেশ  দিচ্ছো   , না  কি   তাকে  দোষ   দিচ্ছো , তা নির্ভর  করে  সেটা  গোপনে  বলছো  না  সবার সামনে   বলছো   একইভাবে  তুমি  তার  দোষ  উপেক্ষা   করছো ,  না   তার  সাথে  আপোস  করছো  তা নির্ভর  করে  , কিভাবে বা কোন  উদ্দেশ্যে তা করছো ?  যদি  ধর্মীয়  কল্যাণের  কথা  ভেবে  বা  এতে পরে  তার  কোন  দীর্ঘমেয়াদী  উপকার  আছে  এই  ভেবে  উপেক্ষা  করো , তবে  তুমি  আপোস  করছো না ।  যদি  তুমি  নিজের  স্বার্থে  তার  দোষ  এড়িয়ে  যাও  , তাহলে  তুমি  আপোস  করছো  ।

ভাই বেঁচে  থাকতে  ও  তার  মৃত্যুর  পরে  তুমি  ভাইয়ের  জন্য  সেই  দুআ  করবে  যা  নিজের  জন্য চাও ।  ।   রাসূল  صلى الله عليه وسلم  বলেন  ,  ভাইয়ের  অনুপস্থিতিতে   তার জন্য   তার মুসলিম  ভাই  যে  দুআ  করে , তা  কবুল  হয়   ।      ভাইয়ের  জন্য  কেউ যখন  দুআ    করে ,  একজন   ফিরিশতা  তা লিখে  রাখে ও বলে  :  হে আল্লাহ ,  এই  দুআ  কবুল  করুন  ও  একে  একই জিনিষ   দান  করুন  যা  সে  তার  ভাইয়ের জন্য চেয়েছে

 (  বর্ণনায়   আবু  আদ  দারদা   رضي الله عنهم   )।

 

 

 

 

 

 

আবু  দারদা  رضي الله عنهم    নাম  ধরে  ধরে  বলে   অনেকের  জন্য  দুআ  চাইতেন  ।  একইভাবে    আহমদ  বিন  হাম্বল  ভোরে  নির্দিষ্ট  ছয়জনের  জন্য  দুআ  করতেন  ।    তুমি  একটি চুক্তি  করবে  যে  , অবশ্যই  তোমার  ভাইকে  তার  মৃত্যুর  আগে পর্যন্ত  ভালবেসে  যাবে  ও  সে মারা যাবার  পরে  তার পরিবার ও  বন্ধুদের  ভালবাসবে  ।   তুমি  যদি  তার  থেকে   টাকা পয়সা   ও মর্যাদায়  অনেক  উঁচুতে  থাকো  তবুও    তার সাথে  বিনীত  ব্যবহার করবে এই  চুক্তির  মধ্যে   এটাও  থাকবে  যে   তুমি  তার  গীবত  শুনবে  না  ও  তার  শত্রুর  সাথে  বন্ধুত্ব  করবে  না    তুমি  তাকে  এমন  কঠিন  কাজ  দেবে  না , যা  সে  করতে  পারবে  না ।  বরং  তুমি  তাকে  তার   দায়িত্ব  ও  বোঝা  থেকে  মুক্তি  দেয়ার  চেষ্টা করবে  ।   তার  বন্ধুত্বকে  ব্যবহার  করে   তার  কোন  সম্পদ  অধিকারে  নেবে   না  ।  তোমাকে  কোন  সাহায্য  করার  জন্য  তাকে  চাপ  দেবে  না  ।  বরং  শুধু  আল্লাহর  সন্ত্তষ্টির  জন্য  তাকে  ভালবাসবে ।  তার সাথে  সহজ সরল  এমন সম্পর্ক  রাখবে  যেন  তুমি  তার কাছে  যা  চাইতে  পারো  ,  সেও     তেমনি   তার দরকারে  চাইতে  পারে  ।

জাফর  বিন  মুহাম্মদ  বলেন :  তারাই   সবচেয়ে  কঠিন  প্রকৃতির   বন্ধু  যারা  আমার  উপর  ভারী বোঝা  হয়ে  আছে  ও  আমি  তাদেরকে এড়িয়ে চলতে  চাই ।  সবচেয়ে সহজ  বন্ধু  তারাই  যাদের  উপস্থিতি  বা  অনুপস্থিতি  কোনটাই  ভারী বোঝা  হয়ে  দাড়ায়  না   

 

 সময়  ও  মনকে  ক্ষতির   হাত  থেকে  রক্ষার  জন্য   বন্ধু  নির্বাচনে  জ্ঞানের  পথের  ছাত্ররা  তাই  সাবধান  হবে  ।  ধর্মীয়  জ্ঞান  ও  পরকালের  জন্য  কল্যাণকর হবে ,  এমন   কাউকে  সে  বন্ধু হিসাবে  বেছে  নিবে  ।

 

আল  খাওয়ারিযমী   رضي الله عنهم  বলেন  :  যে  অলস  তার সাথে  বন্ধুত্ব  করবে  না ;   যারা   দৃঢ়  তাদেরকেও  অলস  মানুষেরা  প্রভাবিত  করে ফেলে  ।     কতজন  সঠিক  পথের  মানুষ নীতিহীনদের   সাথে  বন্ধুত্বের  কারণে  ক্ষতির শিকার  হয়েছে  ?  জ্বলন্ত  কয়লা   ঠান্ডা   হয়ে  যায়  যখন  ছাইতে ফেলা  হয়  ।

Share this post


Link to post
Share on other sites

Create an account or sign in to comment

You need to be a member in order to leave a comment

Create an account

Sign up for a new account in our community. It's easy!

Register a new account

Sign in

Already have an account? Sign in here.

Sign In Now

×